নিউজ ডেস্ক: বর্ষার ভেজা সকালে পাহাড়ি জঙ্গলঘেরা হাইওয়ের ধারে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন পথচলতি মানুষজনরা। ভারী বৃষ্টিতে রাস্তার ধারের গভীর নর্দমা দিয়ে তখন তীব্র স্রোতে বইছে ঘোলা জল আর সেই জলের অতলেই পড়ে গিয়ে বাঁচার জন্য আপ্রাণ ছটফট করছিল একটি চিতল হরিণ। পিচ্ছিল ও খাড়া দেওয়ালের কারণে কোনোভাবেই ওপরে উঠে আসার পথ পাচ্ছিল না সে। হরিণটি যখন প্রায় বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিল, ঠিক তখনই এক অবিশ্বাস্য ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটালো একদল বাঁদর। যা অবাক করে দিয়েছে পথ চলতি সাধারণ মানুষদেরও।
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, বিপন্ন হরিণটির মরণপণ লড়াই নজর এড়ায়নি পাশের ঢালে বসে থাকা বানরদলটির। কোনো হিংসা বা দূরত্ব নয়, চোখের নিমেষে যেন এক অদ্ভুত সহযোগিতার মনোভাব জেগে ওঠে তাদের মধ্যে। বানরগুলি একে অপরের শরীর ও হাত শক্ত করে ধরে খাড়া নিকাশি নালার দেওয়াল ঘেঁষে একদম মানুষের কায়দায় নিচে ঝুঁকে পড়ে। প্রথম থাকা বানরটি প্রচণ্ড সাহসিকতার সঙ্গে নিজের হাত বাড়িয়ে দেয় নীচে থাকা হরিণটির দিকে। নর্দমার তোড়ে তলিয়ে যেতে থাকা হরিণটিও যেন আশার আলো দেখতে পায়, সে-ও প্রাণপণে নিজের সামনের দু’টি পা উঁচিয়ে বানরের দিকে বারিয়ে দেয়।
https://x.com/rahul225234/status/2105069789567992226
চারপাশে তখন শুধুই বৃষ্টির শব্দ আর জলের প্রবল স্রোত। নালার গভীরতা ও স্রোতের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সামান্য ভুলেই হরিণটি আরও দূরে ভেসে যেতে পারত। বারবার দেওয়ালে পা রাখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিল সে। সেই মুহূর্তে বাঁদরগুলির আচরণ যেন পুরো পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
এরপরের দৃশ্যটি এককথায় অলৌকিক। শুধু সামনের বানরটি নয়, ওপরের বাকি সঙ্গীরাও নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে তাকে টেনে পেছনের দিকে ধরে রাখে। নিমেষের খাড়া পিচ্ছিল দেওয়াল পার করে হরিণটিকে জল থেকে এক ঝটকায় ডাঙায় তুলে আনে তারা। মৃত্যুর মুখ থেকে নতুন জীবন ফিরে পেয়ে ডাঙায় দাঁড়ায় হরিণটি।
এই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা। অনেকেই বলছেন আজকাল হয়ত এই মানবতা দেখা যায় না। অবলা প্রাণীগুলি যা করে দেখালো তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। একই প্রজাতির প্রাণী না হলেও একে অপরের বিপদে যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তা সত্যিই অবাক করার মতো। বিপদে বাড়িয়ে দাও হাত, এ যেন আরও একবার প্রমান করল কিছু অবলা প্রাণী।
