নিউজ ডেস্ক: উঁচু গাছের মগডালে থাবা আটকে সামান্য ইতস্তত করছিল শাবকটি। ভাবনা তখন নামবে কী করে? ঠিক তখনই নিঃশব্দে পাশে এসে দাঁড়াল মা চিতা। কীভাবে সামনের থাবা নামাতে হবে, ডালের খাঁজে পেছনের নখ কতটা শক্ত করে গাঁথতে হবে শরীরী ভাষায় যেন একেবারে হাতেনাতে তালিম দিল মা চিতা। মায়ের পদক্ষেপ হুবহু অনুকরণ করে নির্ভয়ে নিচে নেমে এল একরত্তি ছানা। অরণ্যের এই নিবিড় মুহূর্তের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।
তবে বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল মিষ্টি ও সাধারণ দৃশ্য নয়, প্রকৃতির আদিম নিয়মে এ যেন আজীবন বেঁচে থাকার লড়াইয়ের হাতেখড়ি।
https://x.com/supriyasahuias/status/2103717052423004337
বন্যপ্রাণ জগতে মা ও সন্তানের এই অচ্ছেদ্য বন্ধন নিয়ে দীর্ঘ চার দশক ধরে চলা এক গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি ‘জার্নাল অফ অ্যানিম্যাল ইকোলজি’-তে প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণায় দেখা গিয়েছে, একটি মা চিতা তার শাবককে সাধারণত ৯ মাস থেকে শুরু করে প্রায় ৩৫ মাস পর্যন্ত আগলে রাখে। বিশেষ করে জঙ্গলে যখন শিকারের অভাব দেখা দেয় বা খাদ্যের সংকট তীব্র হয়, তখন মা ছানাদের ছেড়ে একা বাঁচতে যায় না। বরং তার উল্টোটাই দেখা যায়, সন্তান স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত বেশি সময় ধরে মা সন্তানদের সঙ্গেই থাকে। স্তন্যপান ছাড়ার পরও বহুদিন পর্যন্ত শাবকদের প্রধান খাবারের জোগান মা একাই শিকার করে এনে দেয়।
শৈশবের এই শিক্ষা ও টান কি বড় বয়সেও থেকে যায়? বিজ্ঞান বলছে, অবশ্যই থাকে। ‘নেচার কমিউনিকেশনস’-এ প্রকাশিত বাদামি ভাল্লুকদের ওপর করা একটি বিস্তৃত গবেষণায় ধরা পড়েছে চমৎকার এক চিত্র। দেখা গিয়েছে, পূর্ণবয়স্ক হয়ে মায়ের ডেরা ছেড়ে বহু দূর চলে যাওয়ার পরও সন্তানরা খাবার খোঁজার ক্ষেত্রে মায়ের শেখানো কৌশল ও খাদ্যভ্যাসই হুবহু বজায় রাখে। মায়ের পাশে থেকে শৈশবে পাওয়া সেই বাস্তব শিক্ষাই তাদের পরবর্তী জীবনে পথ দেখায়।
প্রজাতিভেদে চিতাদের বেঁচে থাকার কৌশল বদলায় ঠিকই, চিতার জন্য তা নিঃশব্দে গাছে চড়া আর ভাল্লুকের জন্য খাবার চিনে নেওয়া। কিন্তু অরণ্যের এই জীব বৈচিত্রের ভেতরেও একটি শাশ্বত সত্য লুকিয়ে রয়েছে। মানুষ হোক বা গভীর অরণ্যের বুনো শিকারী, জীবনের প্রথম পাঠ আর আত্মবিশ্বাসের বীজটা মায়ের সান্নিধ্যেই বেড়ে ওঠে সকলের।
