নিউজ ডেস্ক: মাঝরাতে হঠাৎই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি চত্বর। নিরাপত্তা তোয়াক্কা না করে একদল পড়ুয়া ক্যাম্পাসের মূল প্রবেশ পথের স্বয়ংক্রিয় ব্যারিকেড ও সুরক্ষা পরিকাঠামোয় ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। সেখানেই ধরা পড়েছে এই তাণ্ডবের ছবি।
ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, রাতের অন্ধকারে শত শত পড়ুয়া ক্যাম্পাসের একটি প্রবেশ পথের সামনে জড়ো হয়। সেখানে নিরাপত্তার জন্য বসানো ছিল স্বয়ংক্রিয় ফ্ল্যাপ ব্যারিয়ার বা টার্নস্টাইল গেট। পড়ুয়ার দল সেই গেটগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। একদল যুবক, যাদের অনেকেই কাপড় বা রুমাল দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছে, হাতে লোহার রড ও পাইপ। তা দিয়ে একের পর এক গেটে অনবরত আঘাত করছে তারা। ক্রমাগত আঘাতে কাচ ও ধাতুর তৈরি আধুনিক যন্ত্রাংশ ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই তাণ্ডবে চত্বরে রাখা ট্রাফিক শঙ্কু, ব্যারিকেড ও পথনির্দেশক বোর্ডও রেহাই পায়নি। ভাঙচুরের তীব্র আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে উন্মত্ত জনতার উল্লাস ও স্লোগান ওঠে। যা গোটা এলাকাকে উত্তাল করে তোলে। নিরাপত্তারক্ষীরা তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পড়ুয়াদের বিপুল ভিড়ের সামনে তারা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন।
https://x.com/GUARDYSHIT/status/2103979729720320222
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই হোস্টেলের কড়াকড়ি, প্রবেশ-প্রস্থানের নিয়মে বাড়তি নিষেধাজ্ঞা কিংবা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। তৈরি হচ্ছিল ক্ষোভ। সেই ক্ষোভ থেকেই কি এই পরিকল্পিত তাণ্ডব, নাকি তাৎক্ষণিক কোনও বচসার জেরে এমন হিংস্র রূপ নিল প্রতিবাদ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির যেভাবে ক্ষতিসাধন করা হয়েছে, তাতে সাধারণ পড়ুয়া ও শিক্ষক মহলেও তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ক্যাম্পাসে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশি টহল শুরু হতেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় পড়ুয়াদের ভিড়।
এই ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পুলিশ কর্তাদের বক্তব্য, পড়ুয়াদের দাবিদাওয়া থাকতেই পারে, কিন্তু শিক্ষাঙ্গনে এমন ধ্বংসাত্মক আচরণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি এই ঘটনার পর গোটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
