নিউজ ডেস্ক: মায়ের প্রযুক্তি-ভীতি কাটাতে এত দিন হয়তো ছেলেকেই ডাকতে হত। ‘WhatsApp কোথায়?’, ‘ছবিটা কী ভাবে দেব?’—মায়ের একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিতে ছেলের ব্যস্ততাও কম ছিল না। কিন্তু এখন সেই জায়গাটা অনেকটাই দখল করে নিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ছেলেকে ডাকছেন না মা। সরাসরি প্রশ্ন করছেন AI-কে। আর সেই দৃশ্যই সমাজমাধ্যমে তুলে ধরে মজার মন্তব্য করেছেন এক যুবক—‘Gemini being the son my mom always wanted’। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়তেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে হাসি-মজার পাশাপাশি প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা।
ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন মহিত শর্মার মা। মহিত সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, তাঁর মা Gemini-র কাছে WhatsApp ব্যবহারের সাহায্য চাইছেন। AI ধাপে ধাপে তাঁকে নির্দেশ দিচ্ছে, কোথায় চাপতে হবে, কী ভাবে WhatsApp খুলতে হবে, কী ভাবে ‘Updates’ বিভাগে যেতে হবে এবং কী ভাবে নিজের পছন্দের ছবি দিয়ে স্টেটাস দিতে হবে।
https://www.instagram.com/reel/DdrbCZUTjjP/?utm_source=ig_web_copy_link&stkn=NTc4MTIwNjQ2YQ==
‘WhatsApp কী ভাবে খুলব?’—প্রথম প্রশ্ন মায়ের
ভিডিয়োয় মায়ের প্রথম প্রশ্নই WhatsApp ঘিরে। কী ভাবে অ্যাপটি খুলবেন, তা জানতে চান তিনি। Gemini তাঁকে ফোনের নীচের দিকে থাকা সার্চ অপশনে গিয়ে ‘WhatsApp’ লিখতে বলে। নির্দেশ মেনে অ্যাপ খুলে ফেলেন তিনি।
এর পরেই শুরু হয় পরের ধাপ। WhatsApp খুলেছে জানালে AI তাঁকে ‘Updates’ বিভাগে যাওয়ার পথ বলে দেয়। স্ক্রিনে থাকা নির্দিষ্ট আইকনে চাপতে বলে Gemini। মা-ও এক এক করে সেই নির্দেশ পালন করতে থাকেন।
এ বার ছবি দিয়ে স্টেটাস—সেখানেও AI-ই পথপ্রদর্শক
‘Updates’ বিভাগে পৌঁছে যাওয়ার পর নতুন স্টেটাস দেওয়ার পালা। Gemini তাঁকে ‘Add status’ অপশন ব্যবহার করতে বলে। প্রয়োজনে ক্যামেরা বা পেন্সিল আইকনে চাপার কথাও জানায়।
মা পেন্সিলের অপশনটি বেছে নেন। এর পর Gemini তাঁকে ছবি বাছাই করার নির্দেশ দেয়। গ্যালারি থেকে পছন্দের ছবি নির্বাচন করে সেটি স্টেটাসে কী ভাবে আপলোড করতে হবে, তাও ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দেয় AI।
শেষে সবুজ তিরের মতো থাকা বোতামে চাপতে বলা হয়। নির্দেশ মেনে ছবি আপলোড করেন তিনি। কাজ শেষ হওয়ার পর মায়ের কাছ থেকে আসে নিশ্চিত উত্তর—ছবিটি স্টেটাসে চলে গিয়েছে। Gemini-ও তাঁকে জানান দেয়, তিনি কাজটি খুব ভাল ভাবেই করেছেন।
‘মায়ের পছন্দের ছেলে’—ছেলের রসিকতায় হাসির রোল
মায়ের সঙ্গে Gemini-র এই কথোপকথনের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে মহিত লেখেন, Gemini যেন তাঁর মায়ের ‘সবচেয়ে পছন্দের ছেলে’। আসলে মায়ের ছোটখাটো প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে যে ভাবে AI ধৈর্য ধরে একের পর এক নির্দেশ দিচ্ছে, সেটিকেই মজার ছলে ছেলের সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি।
পোস্টটি ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের একাংশও মজা করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ লিখেছেন, ছোট ছোট জিনিসের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে নেওয়ার উদাহরণ এটি। কেউ আবার পুরো ঘটনাটিকে ‘কিউট’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্য এক ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়া—‘Satisfaction’।
শুধু প্রযুক্তি নয়, বদলাচ্ছে ‘সাহায্য চাওয়ার’ ধরনও
এই ছোট্ট ভিডিয়োটিই অবশ্য AI ব্যবহারের একটি বড় পরিবর্তনের দিক দেখিয়ে দিয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত না হওয়া মানুষও এখন অনেক ক্ষেত্রে AI-কে প্রশ্ন করে সরাসরি সাহায্য নিতে পারছেন। বিশেষ করে স্মার্টফোনের বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে নির্দেশ পাওয়ার সুবিধা প্রযুক্তিকে কিছুটা সহজ করে তুলতে পারে।
মহিতের মায়ের ভিডিয়োয় বিষয়টি আরও স্পষ্ট। তাঁকে কোনও প্রযুক্তিগত পরিভাষা বুঝতে হয়নি। শুধু নিজের প্রয়োজনের কথা বলেছেন। তার পর AI-ই একের পর এক ধাপ বুঝিয়ে দিয়েছে।
এক সময় যে প্রশ্নের উত্তর পেতে বাড়ির ছেলে-মেয়েদের ডাকতে হত, সেই একই প্রশ্নের উত্তর এখন কয়েক সেকেন্ডে পাওয়া যাচ্ছে AI-এর কাছ থেকে। আর সেই কারণেই মহিতের মায়ের সঙ্গে Gemini-র এই ছোট্ট কথোপকথন হয়ে উঠেছে নেটদুনিয়ার মজার এক মুহূর্ত।
