কলকাতা: মাত্র ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ তুললেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। রবিবার নিজের বিধানসভা এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। গাড়ির কাচ ভাঙা থেকে শুরু করে হাতুড়ি দিয়ে হামলা এবং এক ব্যক্তি রিভলভার বের করেছিলেন এমনই গুরুতর দাবি করেছেন কুণাল। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, “আজ আমার গুলিবিদ্ধ দেহ পাওয়া যেত।”
কুণাল ঘোষের দাবি, বাড়ি থেকে বেরোনোর পর থেকেই কয়েকটি বাইক তাঁকে অনুসরণ করতে শুরু করে। তাঁর সঙ্গে থাকা সহকর্মীদেরও নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাইকে থাকা কয়েকজনের মুখ ঢাকা ছিল এবং তাঁদের হাতে ছিল হাতুড়ি।
কুণালের বর্ণনা অনুযায়ী, ফুলবাগানের মোড়ের কাছে তাঁর গাড়িকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাঁর সহকর্মীরা গাড়ি ঘুরিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় পিছন থেকে গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
এরপর তাঁরা নারকেলডাঙার দিকে ঢুকে পড়েন। কুণালের দাবি, সেখানে ফের একদল বাইক আরোহী তাঁদের গাড়ি ঘিরে ফেলে। শুরু হয় গালিগালাজ। তাঁর অভিযোগ, গাড়ির সামনের কাচ হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। এমনকি তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে বের করার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কুণাল বলেন, গাড়ির ভিতরে এখনও একটি হাতুড়ি পড়ে রয়েছে। তিনি চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন। কাচ ভাঙার পর তাঁর গলা ধরে টেনে বের করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে, অন্য একজন রিভলভার বের করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
কুণালের কথায়, পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছিল যে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কলকাতা পুলিশের কর্মীদেরও রিভলভার বের করতে হয়। তিনি জানান, গাড়িতে তাঁর সঙ্গে আরও চারজন ছিলেন। চালকের ভূমিকার প্রশংসা করে কুণাল বলেন, ওই পরিস্থিতি থেকে গাড়িটিকে নিরাপদে বের করে আনার জন্য তিনি চালকের কাছে কৃতজ্ঞ।
এর আগেও আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন কুণাল ঘোষ। এবার পরপর ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর সঙ্গে থাকা সহকর্মীরাও নিরাপদ নন বলে দাবি করেন তিনি।
কুণালের আরও অভিযোগ, এই ঘটনার পিছনে পরিকল্পনা থাকতে পারে। তাঁর দাবি, বাড়ি থেকে বেরোনোর পর থেকেই তাঁকে অনুসরণ করা হচ্ছিল এবং একের পর এক বাইক সেই দলে যোগ দেয়। হামলাকারীদের কয়েকজনের পরিচয় ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কুণাল বলেন, “এটা কী হচ্ছে?” তাঁর দাবি, তাঁকে বাঁচতে দেওয়া হবে না এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছে। যদিও হামলার অভিযোগের সম্পূর্ণ সত্যতা এবং এর পিছনে কারা রয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। বর্তমানে কুণাল ঘোষের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
