নয়াদিল্লি: ‘মন কি বাত’-এর ১৩৮তম পর্বে দেশের নানা প্রান্তের মানুষের উদ্যোগ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান নিয়ে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন বিশেষভাবে পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের ঝড়খালির মহিলাদের প্রশংসা করেন তিনি। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য রক্ষা ও নতুন করে গাছ লাগানোর কাজে তাঁদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদী বলেন, পরিবেশ রক্ষা মানে শুধু গাছপালা সংরক্ষণ নয়, এর সঙ্গে গোটা বাস্তুতন্ত্র জড়িয়ে রয়েছে। এই প্রসঙ্গেই সুন্দরবনের ঝড়খালির মহিলাদের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই মহিলারা নিয়মিত ম্যানগ্রোভ রোপণ ও সংরক্ষণের মাধ্যমে নতুন করে অরণ্য গড়ে তুলছেন।
এই মহিলাদের মধ্যে অনেকেই ‘বাঘ-বিধবা’। অর্থাৎ সুন্দরবনের জঙ্গলে বাঘের হামলায় তাঁদের স্বামীদের মৃত্যু হয়েছে। স্বজন হারানোর এমন কঠিন অভিজ্ঞতার পরও তাঁরা পরিবেশ রক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের এই উদ্যোগকে তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
পরিবেশ সংরক্ষণের প্রসঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার উদ্যোগের কথাও বলেন মোদী। মধ্যপ্রদেশে যুবকদের নদী পরিষ্কারের উদ্যোগ এবং মুম্বইয়ে প্রতি সপ্তাহে সমুদ্রসৈকত পরিষ্কারে যুবক-যুবতীদের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গেও স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবকদের পিকনিক স্পট পরিষ্কার করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণই পরিবেশ সংরক্ষণকে আরও শক্তিশালী করে।
এদিন ‘মন কি বাত’-এ স্বচ্ছতার প্রসঙ্গও উঠে আসে। আগামী ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছতা গান্ধীজির দেখানো গুরুত্বপূর্ণ পথগুলির অন্যতম। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষ নিজেরাই পরিচ্ছন্নতার কাজে এগিয়ে আসছেন বলেও জানান তিনি।
পরিবেশের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ নিয়েও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৬ সালের ২৮-২৯ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ১০ বছর আগে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে জঙ্গিদের ঘাঁটিতে অভিযান চালানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক থেকে অপারেশন সিঁদুর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
২০০৮ সালের দিল্লির ধারাবাহিক বিস্ফোরণ এবং ২৬/১১ মুম্বই হামলার প্রসঙ্গ তুলে মোদী বলেন, একটা সময় দেশে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটত। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে এগোচ্ছে।
এদিন জনগণনার বিষয়েও দেশবাসীকে সচেতন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, জনগণনার প্রথম পর্বে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩২ কোটি মানুষের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। নাগরিকদের নিজেদের তথ্য সঠিকভাবে জানানোর আহ্বান জানান তিনি এবং অনলাইন ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।
‘মন কি বাত’-এর এই পর্বে ২৭ সেপ্টেম্বরের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ, অশোক সিংঘলের জন্মবার্ষিকী এবং সোমনাথ মন্দিরের ইতিহাস নিয়েও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সাফল্য এবং নেশামুক্তি অভিযানে যুবসমাজের অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তবে এদিনের বক্তব্যে সুন্দরবনের ঝড়খালির মহিলাদের প্রসঙ্গ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। প্রতিকূলতার মধ্যেও ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় তাঁদের ভূমিকা ‘জনঅংশীদারিত্ব’-এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।
