দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: রাজ্য জুড়ে প্রভাব পড়েছিল অর্ণবের। তার জেরে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি হতে দেখা গিয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতে। সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে এর প্রভাব অনেকটাই বেশি পড়েছিল। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা গুলির জন্য। এমনকি পর্যটকদেরও সমুদ্রে নামতে দেওয়া হচ্ছিল না। মৎস্যজীবীদের মাছ ধরার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল প্রশাসন।
এই অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই ফের উত্তাল সমুদ্র সৈকত। তার সঙ্গে পূর্ণিমার কোটালের দাপটে সুন্দরবনের উপকূলবর্তী এলাকায় নদীবাঁধ ভাঙন নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কোথাও নদীবাঁধে ধস, আবার কোথাও কংক্রিটের বোল্ডার ধসে যাওয়ায় গ্রামে জল ঢোকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই দুশ্চিন্তার মধ্যে ভুগছে গ্রামের মানুষজন। গঙ্গাসাগরের সুমতিনগর থেকে নামখানার মৌসুনি দ্বীপ, ফ্রেজারগঞ্জ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। শুধু গ্রামের মানুষজনই নন পর্যটন ব্যবসায়ীরাও বেশ কিছুটা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার কোটালের জেরে নামখানা ব্লকের মৌসুনি দ্বীপের বালিয়াড়া-সল্টঘেরি এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার নদীবাঁধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে পয়লা ঘেরি এলাকায় প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে। কোটালের জল আরও বাড়লে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ফ্রেজারগঞ্জের অমরাবতী গ্রামের হাতিকর্না এলাকাতেও ভাঙনের পরিস্থিতি ভয়াবহ। উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় নদীবাঁধের একাধিক অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর প্রশাসন। শনিবার রাতেই গঙ্গাসাগরের পুলিশ আধিকারিকেরা নদীর বাঁধ ঘুরে পাহারা দেন। সাহস যোগান এলাকার মানুষদের। রবিবার সাত সকালে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেচ দফতরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে ফ্রেজারগঞ্জের বিভিন্ন ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেন সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলি দ্রুত মেরামতের বিষয়ে সেচ দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে বিজেপি নেতা প্রদীপ দাস বলেন, ‘সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রীর নির্দেশে ভাঙ্গন প্রবণ এলাকা গুলির মানুষদের ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে আনা হয়েছে। মানুষের যাতে কোন ক্ষয়ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ’
প্রকৃতির রুদ্র রূপের কাছে অসহায় হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। বারে বারে নদী ভাঙ্গন ও সমুদ্রের উত্তাল রূপ যা রীতিমতো আতঙ্ক সৃষ্টি করছে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলির মানুষদের মধ্যে।
