উত্তরপাড়া, নিউজ ডেস্ক: কথা ছিল সরকারি দফতরে যাওয়া। প্রয়োজন ছিল কয়েকটি নথির। মাঝপথেই আচমকা এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় আর তারপরেই বদলে গেল গোটা পরিস্থিতি। সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে ওই যুবক বৃদ্ধাকে নিজের মোটরসাইকেলে তুলে নেয়। কিন্তু, গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় এক নির্জন রাস্তায়। এরপর ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা এখনও আতঙ্কিত করে রেখেছে বৃদ্ধাকে।
ঘটনাটি ঘটেছে বাবলা উত্তরপাড়া এলাকায়। সরকারি বার্ধক্য ভাতার টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক বৃদ্ধার হাত থেকে সোনার গয়না খুলে নিয়ে চম্পট দিল এক প্রতারক। প্রতারণার শিকার বৃদ্ধার নাম গীতা রানী পাল। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাবলা উত্তরপাড়ার বাসিন্দা গীতা পাল তাঁর সরকারি বার্ধক্য ভাতার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে নিকটবর্তী বাবলা পঞ্চায়েত অফিসের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। মাঝপথে এক অজ্ঞাতপরিচয় মোটরসাইকেল চালক যুবক তাঁর পথ আটকায়। নিজেকে সরকারি পরিষেবা প্রদানকারী হিসেবে জাহির করে সে বৃদ্ধাকে জানায় যে, তাঁর ভাতার টাকা ঢুকেছে এবং তা দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য দরকারি নথিপত্র আনতে বলে সে বৃদ্ধাকে বাড়ি পাঠায়।
জানা গিয়েছে, বৃদ্ধা বাড়ি ফিরে নথিপত্র নিয়ে পুনরায় এলে প্রতারক যুবক তাঁকে বাইকে তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। সে জানায়, পঞ্চায়েতের দিকে যাওয়ার পথে তাঁকে নামিয়ে দেবে। বৃদ্ধা সরল বিশ্বাসে ওই কালো রঙের মোটরসাইকেলটিতে চেপে বসেন। চালকের মাথায় হেলমেট বা টুপি ছিল বলে বৃদ্ধা জানিয়েছেন। এরপর সে পঞ্চায়েতে না নিয়ে গিয়ে চালক বাইক নিয়ে চলে যায় এক নির্জন রাস্তায়। সেখানে নির্জন জায়গায় গাড়ি থামিয়ে ওই প্রতারক বৃদ্ধাকে জানায়, হাতে ধাতুর গয়না থাকলে সরকারি টিপসই নেওয়া যাবে না। সেই ছলে বৃদ্ধার দুই হাত থেকে আনুমানিক ৬ গ্রাম ওজনের একজোড়া সোনার পেটি চুরি বালা জোর করে খুলে নেয় সে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে একাকী নির্জন রাস্তায় ফেলে রেখে প্রতারক দ্রুত বাইক নিয়ে চম্পট দেয়।
ঘটনায় চরম আতঙ্কিত ও হতভম্ব হয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধা। হতভম্ব অবস্থায় কোনওরকমে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে তিনি বাড়িতে ফিরে পরিবারের লোকজনকে সমস্ত ঘটনার কথা জানান। বৃদ্ধার ছেলে বাদল পাল জানান, তাঁর মা কাউকে কিছু না জানিয়ে একাই পঞ্চায়েতে যাচ্ছিলেন। তবে প্রতারক নথিপত্র না নিয়ে কেবল হাতের সোনার গয়না হাতিয়ে পালিয়ে গেছে। ঘটনার পরই পরিবার ও এলাকার মানুষের পক্ষ থেকে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গ্রামে পৌঁছে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। রাস্তার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত বাইক চালককে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন অভিনব কৌশলে দুঃসাহসিক প্রতারণার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
