নিউজ ডেস্ক: এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সাংবাদিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে এসআইআর, ফর্ম ৬ এবং ভোটার তালিকা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ ও বিরোধীদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে একাধিক দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআইএমের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৮টি আসনে জয় পেয়েছে। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী মিলিয়ে প্রায় ৮০টি আসন পেয়েছে এবং প্রায় ২ কোটি ৪৭ লক্ষের বেশি ভোট পেয়েছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার পরও বিরোধী দলগুলি ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এসআইআর এবং ফর্ম ৬ সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে বিরোধীদের পাশাপাশি কিছু সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির নির্বাচনী সাফল্য মেনে নিতে না-পেরে কিছু চ্যানেলও এই বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে তুলছে। যদিও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই উঠে আসে।
এরপর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার সময়কার রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, একসময় কংগ্রেস থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গে বাম শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময়ে অটল বিহারী বাজপেয়ী রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় দিয়েছিলেন। নন্দীগ্রাম, নেতাই-সহ বাম আমলের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে শুভেন্দু দাবি করেন, যে রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে তৃণমূলের জন্ম হয়েছিল, সেই সিপিআইএমের সঙ্গেই এখন তৃণমূলের রাজনৈতিক সমন্বয় দেখা যাচ্ছে।
বিধানসভায় সাম্প্রতিক একটি বিলকে কেন্দ্র করে ভোটাভুটির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, সেই ঘটনায় তৃণমূল ও সিপিআইএমের অবস্থানের মধ্যে মিল দেখা গিয়েছিল। এসআইআর ইস্যুতেও দুই দলের নেতাদের বক্তব্যে একই ধরনের সুর শোনা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে সিপিআইএম নেতা মহম্মদ সেলিমের প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, বিভিন্ন সভা ও সাংবাদিক বৈঠকে এসআইআর নিয়ে যে ভাষায় তৃণমূল নেতৃত্ব সরব হয়েছেন, সেলিমও একই ধরনের বক্তব্য রেখেছেন। শ্রীরামপুরের একটি সভায় উপস্থিতির সংখ্যা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। সংবিধান, পহেলগাঁও হামলা এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিরোধীদের অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে তাঁদের বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি, একটি নতুন রাজনৈতিক দলের নেত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে এসআইআরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক যে আগামী দিনগুলিতে আরও তীব্র হতে পারে, শুভেন্দু অধিকারীর সাংবাদিক বৈঠকের বক্তব্যে তারই ইঙ্গিত মিলেছে। ভোটার তালিকা সংশোধন, ফর্ম ৬ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির পাল্টাপাল্টি দাবি এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়।
