নিউজ ডেস্ক: ফের বেলেঘাটার তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুনাল ঘোষের গাড়ির উপর হামলা। নারকেল ডাঙ্গা থানাতে উপস্থিত বিধায়ক। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, বাড়ি থেকে বেরোনোর পর থেকেই বাইকে করে তাঁকে অনুসরণ করা হচ্ছিল। এরপর ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি চা-চক্রের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়ি ঘিরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
কুণাল ঘোষ বলেন, 'আমাকে খুনের চেষ্টা হল। আজ হাতুড়ি দিয়ে কাঁচ ভেঙে কলার ধরে ঝুলল। আরেকজন বাইকে রিভলবার বার করেছে। আমার সিকিউরিটি রিভলবার বার করতে ওরা একটু থমকায়। ফুলবাগান থেকে নারকেলডাঙা, হামলা চলেছে। বাড়ি থেকে ফলো শুরু করেছে। ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুরো ঘটনায় কারা জড়িত, কী কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটল এবং আগে থেকেই কুণাল ঘোষকে অনুসরণ করা হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
https://www.facebook.com/share/v/18ZGtSJx8B/
বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের উপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হল বাংলায়। শনিবার উত্তরপাড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরের সভায় যাওয়ার পথে কুণাল ঘোষের গাড়িতে ইট, পাথর ও ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। হামলায় গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। কুণাল নিজেও আঘাত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ঘটনার পর তিনি কলকাতায় ফিরে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর কথা বলেন।
এই ঘটনার পর রবিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কুণাল ঘোষের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করেন। তাঁর বক্তব্য, ১৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে কুণাল ঘোষের উপর এটি দ্বিতীয় হামলার ঘটনা। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি রাজ্যপাল আর এন রবির কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন।
দেখুন-https://x.com/abhishekaitc/status/2104084146582929514
অভিষেকের দাবি, দলবদল করতে অস্বীকার করার কারণেই সম্ভবত কুণালকে লক্ষ্য করে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছে। যদিও হামলার পিছনে কারা রয়েছে, সেই বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনও চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কুণাল ঘোষের পক্ষ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। বিজেপির স্থানীয় বিধায়ক অবশ্য ঘটনাটিকে ‘জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া’ বলে দাবি করেছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে রাজ্যপালকে কথা বলারও অনুরোধ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক হিংসা ও ভয় দেখানোর সংস্কৃতি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার পর কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছিলেন, হামলার সময় ঘটনাস্থলে কোনও পুলিশকর্মী ছিলেন না। তাঁর গাড়ির পিছনের কাচ ভেঙে যায় এবং হামলাকারীরা রাস্তা আটকে তাঁকে ঘিরে ধরে বলে তাঁর অভিযোগ। পরে ভাঙা গাড়ি নিয়ে তিনি ভবানী ভবনে পৌঁছন। সেখানে ঢোকা নিয়েও পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয় বলে খবর।
এই ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও সরব হয়েছেন অভিষেক। বিজেপি যদি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় পেয়েছে বলে দাবি করে, তাহলে দলবদল করতে অস্বীকার করা বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে ভয় দেখানো বা হামলার অভিযোগ কেন উঠছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তবে পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার নেপথ্যে নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই ঘটনার তদন্ত এবং দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
অভিষেকের বক্তব্য, বাংলার মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন চান। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির উপর হামলা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তাই দলমত নির্বিশেষে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
