নিউজ ডেস্ক: এক লহমার অসতর্কতা আর বেপরোয়া গতির বলি হল এক নিষ্পাপ প্রাণ। রাজস্থানের জালোর জেলার সঁঞ্চোর শহরে নিয়ন্ত্রণহীন এক এসইউভি গাড়ির ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু হলো এক শিশুর। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুটির বাড়ি সঁঞ্চোরের ইন্দিরা কলোনি এলাকায়। সকালের দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাড়ির কাছেরই একটি দোকানে গিয়েছিল সে। সময় তখন আনুমানিক সোয়া দশটা। আশপাশেই খেলাধুলো করছিল শিশুটি। হঠাৎই সে চঞ্চল পায়ে দৌড়ে মূল রাস্তার দিকে চলে যায়। বিপদ আঁচ করতে পেরে পরিবারের দুই মহিলা আতঙ্কে চিৎকার করতে করতে তার পেছনে ছোটেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছুটে আসা একটি সাদা রঙের স্করপিও গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে শিশুটিকে।
https://x.com/TheSiasatDaily/status/2103786009288683857
সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই জোরালো ছিল যে শিশুটি ছিটকে গিয়ে রাস্তায় পড়ে। রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় পরিজনেরা কালবিলম্ব না করে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই দুঃসংবাদ পৌঁছতেই পরিবারে কান্নার রোল পড়ে যায়।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানার পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। সেই হাড়হিম করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শিশুটিকে বাঁচাতে পেছনে ছুটছেন দুই মহিলা, আর পরক্ষণেই ঝড়ের গতিতে আসা গাড়িটি তাকে পিষে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। ধাক্কা মারার পর চালক ব্রেক কষা তো দূর, গতি আরও বাড়িয়ে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘাতক স্করপিও গাড়িটির নম্বর চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। শহরের বিভিন্ন নাকা পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পলাতক চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের এই ব্যস্ত রাস্তাটিতে নিয়মিত গতিসীমা লঙ্ঘন করে যানবাহন চলাচল করে। পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় প্রায়শই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। দ্রুত গতির এই বেপরোয়া মনোভাবের বিরুদ্ধেই এবার কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
