গুয়াহাটি, নিউজ ডেস্ক - রাতের অন্ধকারে বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলেন তরুণী। কিছুক্ষণ পর মায়ের ফোনে আসে উদ্বিগ্ন বার্তা, তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। এমনকি, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এরপরই আচমকা বন্ধ হয়ে যায় ফোন। রাতভর উৎকণ্ঠার পর হোমস্টের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হল তরুণীর দেহ। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে অসমের গুয়াহাটির ধারা পুরের গড়ল এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম নিমিষা ঠাকুরিয়া। বয়স ২২ বছর। তিনি ধারাপুরের বাসিন্দা দ্বীপ ঠাকুরিয়ার জ্যৈষ্ঠ কন্যা এবং গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ বছরের সমন্বিত পাঠক্রমের স্নাতক শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রায় ১১ টা নাগাদ বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলেন নিমিষা। পরে গভীর রাতে মাকে ফোন করেন তিনি। সেই ফোনে এক বন্ধুর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলেও জানান। এরপরই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার দ্রুত আজারা থানায় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। গড়ল এলাকার ‘Rudra's Kitchen' নামের একটি হোমস্টেতে তল্লাশি চালিয়ে নিমিষার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর দেহ দিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। এই ঘটনায় নিমিষার সঙ্গে থাকা ২৬ বছরের আছিক আলীকে আটক করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, পেশাতে তিনি রেপিডো চালক। পাশাপাশি, হোমস্টের মালিক জয়ন্ত সাথীকেউ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাঁদের কাছে ঘটনার বিষয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, আছিকের দাবি অনুযায়ী নিমিষা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে, সেই দাবি কতটা সত্য, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে, নিমিষার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তে শনিবার ধারাপুরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ তুলে রাস্তায় নামেন। শতাধিক মানুষ পথ অবরোধ করে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। কেউ কেউ ঘটনাটিকে 'লাভ জিহাদ' এর সঙ্গে যুক্ত করেও অভিযোগ তোলেন। তবে, পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত, মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
