নিউজ ডেস্ক: এক পলকের অসাবধানতা আর কয়েক সেকেন্ডের রোমহর্ষক দৃশ্য জীবন ও মৃত্যুর মাঝের ব্যবধানটা যেন মুছে যেতে বসেছিল নিমেষেই। বহুতল ভবনের ওপর থেকে নিচে আছড়ে পড়ছিল এক তিন বছরের শিশু। ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণে মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা এক পথচারীর অসীম সাহস ও চোখের পলকে নেওয়া সিদ্ধান্তে ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য অলৌকিক ঘটনা। শূন্যে হাত বাড়িয়ে শিশুটিকে কোলে লুফে নিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে এখন সেই মানুষটিই গোটা দেশের চোখে সত্যিকারের এক ‘নায়ক’।
ঘটনাটি ঘটেছিল একটি ব্যস্ততম দিনে। বহুতল ভবনের ঠিক নিচেই স্বাভাবিক নিয়মে পথচলতি মানুষ আর যানবাহনের আনাগোনা চলছিল। হঠাৎই ওপরের দিকে নজর যেতেই কয়েকজনের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। দেখা যায়, বহুতলের পাঁচ তলার খোলা জানলা কিংবা রেলিং এ গলে বিপজ্জনকভাবে ঝুলছে একরত্তি শিশু। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আশপাশে উপস্থিত মানুষের হৃৎস্পন্দন যেন এক মুহূর্তে থমকে যায়। কী করবেন বুঝে ওঠার আগেই হাত ফসকে তীব্র গতিতে নিচের দিকে খসে পড়তে শুরু করে শিশুটি।
ঠিক সেই সংকটজনক মুহূর্তে নিজের জীবনের ঝুঁকি তুচ্ছ করে এগিয়ে আসেন এক ব্যক্তি। নীচে দাঁড়িয়ে তিনি এক দৃষ্টিতে লক্ষ্য রাখছিলেন শিশুটির গতিপথ। সেকেন্ডের ভগ্নাংশের হিসাবে যখন শিশুটি কংক্রিটের রাস্তায় পড়ার মুখে, ঠিক তখনই তিনি শরীর বাড়িয়ে দেন এবং শূন্যেই আঁকড়ে ধরেন শিশুটিকে। প্রচণ্ড গতিতে নামতে থাকা ভারের ধাক্কায় তিনি নিজেও কিছুটা টাল সামলাতে বাধ্য হন, তবে হাত ফসকাতে দেননি এক মুহূর্তের জন্যও।
https://x.com/rezaletiyisey/status/2103390722653069504
হাড়হিম করা এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বাকি পথচারীরা স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে উদ্বেগ বদলে যায় স্বস্তির নিঃশ্বাসে। ঘটনাস্থলেই উপস্থিত অন্যান্যরা দ্রুত ছুটে এসে শিশুটিকে পরীক্ষা করেন এবং নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। অলৌকিকভাবে বড় ধরনের কোনো আঘাত ছাড়াই রক্ষা পেয়েছে সেই শিশু।
সামাজিক মাধ্যমে এই উদ্ধারকাজের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে। নেটিজেনদের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ওই ব্যক্তির উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করছেন। কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া খালি হাতে এভাবে অন্যের প্রাণ বাঁচানোকে অনেকেই ‘মানবতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। নিজের কৃতিত্ব নিয়ে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস না দেখিয়ে সেই ব্যক্তি সাধারণভাবেই জানিয়েছেন, ওই মুহূর্তে তাঁর মাথায় অন্য কোনো চিন্তা আসেনি শুধু একটাই তাগিদ ছিল, যেভাবেই হোক প্রাণটা বাঁচাতে হবে।
