নিউজ ডেস্ক: পুজোর আগে হাওড়া শহরের বেহাল রাস্তা সারাইয়ের কাজ শুরু হল। দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা রাস্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং ক্ষোভের অভিযোগ ছিল। সেই পরিস্থিতি বদলাতে এবার হাওড়া পুরসভা এলাকায় একাধিক রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে পুজো ও হোম-যজ্ঞের মাধ্যমে রাস্তা সংস্কারের কাজের সূচনা করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
হাওড়া পুরসভার ময়দান চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরোহিতের উপস্থিতিতে পুজো করা হয়। এরপর নারকেল ফাটিয়ে রাস্তা মেরামতির কাজের সূচনা করেন মন্ত্রী। প্রশাসন সূত্রে খবর, পুজোর আগেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ এবং বেহাল রাস্তা মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এই রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে প্রায় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০০টি রাস্তা মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে। পুজোর আগে কাজ শেষ করতে দিন-রাত কাজ চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে নজরদারিও থাকবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা উত্তর হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রাই, বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিং, হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া এবং হাওড়া পুর কমিশনার তেজস্বী রানা। এছাড়াও পুরসভা ও পুলিশের একাধিক আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের পর থেকেই হাওড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়ে যায়। প্রশাসনের লক্ষ্য, বর্ষার কারণে তৈরি হওয়া খানাখন্দ এবং দীর্ঘদিনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার সমস্যা দ্রুত মেটানো। বিশেষ করে পুজোর মরশুমে হাওড়ায় মানুষের যাতায়াত বাড়ে। ফলে তার আগেই রাস্তা মেরামত শেষ করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেছেন, আগের সরকারের আমলে রাস্তা সংস্কারের কাজ যথেষ্ট হয়নি বলেই হাওড়ার বহু রাস্তার এই পরিস্থিতি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। যদিও এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত এবং বিরোধী পক্ষের প্রতিক্রিয়াও রয়েছে।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে পুজোর আগে হাওড়ার রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘোষণার পর এবার বাস্তবে কাজ শুরু হল।
হাওড়া শহরের একাধিক এলাকায় রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও রাস্তার পিচ উঠে যাওয়ায় যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। বৃষ্টির সময়ে সেই সমস্যা আরও বাড়ে। রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় আপাতত স্বস্তির আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এখন মূল নজর থাকবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১০০টি রাস্তার সংস্কারের কাজ কতটা এগোয় এবং পুজোর আগে তার কতটা বাস্তবায়িত হয়। প্রশাসনের দাবি, দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে শহরের নাগরিক দুর্ভোগ কমানোই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।
