জলপাইগুড়ি, নিউজ ডেস্ক: বাড়ি ফেরার জন্য আগেই কাটা ছিল ট্রেনের টিকিট। সহকর্মী তাঁকে স্টেশনে পৌঁছে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ট্রেনে ওঠেননি তিনি। বরং সবার অগোচরে ফিরে এসেছিলেন কর্মস্থলে। তারপর রাতের অন্ধকারে বেকারির ভিতরে ঘটে যায় রক্তাক্ত ঘটনা। সকালে ম্যানেজারের দেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নেমে পুলিশ পৌঁছয় সেই কর্মীর কাছেই। এখন, একটাই প্রশ্ন ঠিক কি কারণে ঘটল এই খুন?
জলপাইগুড়ি পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াবস্তি এলাকায় বেকারি ম্যানেজার হাফিজুল রহমানের (৫৫) খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে বেকারির কর্মী নূর শেখকে (২৮)। তাঁর বাড়ি মুর্শিদাবাদের সালার এলাকায়। শনিবার অভিযুক্তকে মুর্শিদাবাদ থেকে জলপাইগুড়িতে নিয়ে আসে পুলিশ। আদালতে নিয়ে আসলে তদন্তের স্বার্থে পাঁচ দিনের জন্য পুলিশের হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। শুক্রবার ভোরে বেকারির ভিতর থেকে হাফিজুলের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পাশাপাশি বেকারির ভিতরে নগদ কিছু টাকাও সরানো হয়। প্রথম থেকেই পুলিশের অনুমান ছিল ঘটনার সঙ্গে পরিচিত কেউ জড়িত থাকতে পারে। সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ঘটনার পর নূর বাসে করে মুর্শিদাবাদের দিকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। জলপাইগুড়ি পুলিশের তরফে মুর্শিদাবাদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর কান্দি থানার পুলিশ বাস থেকে নূরকে আটক করে। পরে, জলপাই গুড়ির পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে নূরকে হেফাজতে নেয়। ইতিমধ্যেই তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। বেকারি থেকে উদ্ধার হয়েছে সম্ভাব্য মার্ডার ওয়েপণ। সেটিকে বাজেয়াপ্ত করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। শনিবার ও ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত চালায় পুলিশ। বেকারি মালিক ও কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ি ফেরার জন্য হাফিজুলের কাছে কয়েক হাজার টাকা চেয়েছিলেন নূর। তাঁকে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছিল। তা নিয়ে কোনও মনোমালিন্য হয়েছিল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে নুর মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। ব্যক্তিগত আক্রোশ নাকি টাকা সংক্রান্ত বিবাদ, এই দুই সম্ভাবনা সামনে রেখে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে বেকারি মালিক ও কর্মীদের দাবি, হাফিজুল অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করতেন। ঘটনার দিন এক কর্মী তাঁকে টাউন স্টেশনে পৌঁছে দেন। কিন্তু, ট্রেনে না উঠে তিনি ফের বেকারিতে ফিরে এসেছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। রাতে সকলের ঘুমের সুযোগ নিয়ে তাকে খুনের পর ঘুলঘুলির তারজালি কেটে পালানোর অভিযোগ নূরের বিরুদ্ধে। তবে, খুনের নেপথ্যে আসলে কি, তা তদন্তেই উঠে আসবে।
