নিউজ ডেস্ক: মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে তাঁকে ঘিরে বাংলাজুড়ে নানা অনুষ্ঠান চলছে। এরই মধ্যে ঝাড়গ্রাম থেকে এল মনখারাপ করা খবর। উত্তম কুমারের স্মৃতিবিজড়িত সরডিহা রেলস্টেশনের পুরনো ফুট ওভার ব্রিজটি এবার ভেঙে সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। ‘বাঘ বন্দী খেলা’ ছবির শুটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল এই সেতু। ফলে স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি পুরনো রেলসেতু নয়, সিনেমার স্মৃতিও বহন করে।
সরডিহা রেলস্টেশনের এই ফুট ওভার ব্রিজটি তৈরি হয়েছিল ১৯৫৫ সালে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর সেতুটি বেহাল ও বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। প্রায় এক বছর আগে যাত্রীদের জন্য নতুন ফুট ওভার ব্রিজ তৈরি করা হয়। এরপর পুরনো সেতুটিতে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবার সেটি পুরোপুরি ভেঙে সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
এই পুরনো সেতুর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে উত্তম কুমারের সিনেমার স্মৃতি। ১৯৭৪ সালে পরিচালক পীযূষ বসুর ‘বাঘ বন্দী খেলা’ ছবির শুটিং হয়েছিল সরডিহা রেলস্টেশন এবং সংলগ্ন এলাকায়। সিনেমায় সরডিহা স্টেশনকে দেখানো হয়েছিল ‘রানীপুর’ রেলস্টেশন হিসেবে। শুটিংয়ের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল সেই পুরনো ফুট ওভার ব্রিজটিও।
সেই সময় উত্তম কুমার, পার্থ মুখোপাধ্যায়-সহ ছবির অন্যান্য কলাকুশলীদের দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমত। এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় তখন মানিকপাড়া হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি কাছ থেকে মহানায়ককে দেখেছিলেন। ১৯৭৪ সালের সেই তিন দিনের শুটিংয়ের স্মৃতি এখনও তাঁর মনে স্পষ্ট।
দেবাশিসবাবুর আক্ষেপ, উত্তম কুমারের স্মৃতিবিজড়িত ব্রিজটি সংরক্ষণ করার জন্য রেলের বিভিন্ন মহলে আবেদন করা হলেও কোনও ফল হয়নি। তাঁর বক্তব্য, মহানায়কের জন্মশতবর্ষে ‘বাঘ বন্দী খেলা’র সেই ‘রানীপুর’ স্টেশনের স্মৃতিবিজড়িত সেতুটিও ইতিহাসের অংশ হয়ে যাচ্ছে।
একই আক্ষেপ ঝাড়গ্রাম হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মধুসূদন কর্মকারের। তাঁর মতে, সরডিহার সঙ্গে উত্তম কুমারের এই ঐতিহাসিক যোগ পর্যটকদের কাছে যথেষ্ট আকর্ষণীয়। জায়গাটি সংরক্ষণ করা গেলে তা ঝাড়গ্রাম জেলার পর্যটনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারত বলে মনে করেন তিনি।
তবে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের এক আধিকারিকের বক্তব্য, নতুন ফুট ওভার ব্রিজ তৈরি হওয়ার পর পুরনো সেতুটি বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল এবং সেখানে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই কারণেই সেটি ডিসমেন্টাল করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
ফলে নিরাপত্তার কারণে পুরনো সেতু সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও স্থানীয় প্রবীণ এবং পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাংশের আক্ষেপ, উত্তম কুমারের মতো কিংবদন্তি অভিনেতার স্মৃতিবিজড়িত এই জায়গাটিকে অন্যভাবে সংরক্ষণ করা যেত। জন্মশতবর্ষের আবহে তাই সরডিহার পুরনো ফুট ওভার ব্রিজের বিদায় স্থানীয়দের কাছে হয়ে উঠেছে নস্টালজিয়া ও আক্ষেপের মুহূর্ত।
