নিউজ ডেস্ক: কলকাতার বাগুইআটিতে একটি ওষুধের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ উদ্ধার করল পুলিশ। শনিবারের এই অভিযানে মোট প্রায় ৩৪ হাজার বোতল কাফ সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। উদ্ধার হওয়া সিরাপের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর বাগুইহাটি থানার পুলিশ নারায়ণতলা পশ্চিম এলাকার একটি ওষুধের গোডাউনে হানা দেয়। সেখানে তল্লাশি চালাতেই সামনে আসে বিপুল পরিমাণ কাফ সিরাপের মজুত। গোডাউনের ভিতরে থরে থরে সাজানো ছিল বোতলগুলি। এরপর সেগুলি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।
এই বিপুল পরিমাণ কাফ সিরাপ কীভাবে ওই গোডাউনে এল, কোথা থেকে সেগুলি আনা হয়েছিল এবং কোথায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গোডাউনের মালিক বা এই মজুতের সঙ্গে কারা জড়িত, তাঁদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ বা বেআইনি ভাবে কাফ সিরাপের ব্যবসার পিছনে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তদন্তে উঠে আসছে।
রাজ্যজুড়ে নেশার বিরুদ্ধে অভিযানের মধ্যেই বাগুইআটির এই উদ্ধারকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ বাজেয়াপ্ত এবং ধ্বংস করার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। প্রশাসনের তরফে নেশাজাতীয় ওষুধের বেআইনি ব্যবহার ও পাচারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউটাউনের ইকো পার্কে ‘নেশা মুক্ত ভারত ২০২৯’ কর্মসূচির একটি অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ ধ্বংস করা হয়েছিল। সেখানে রোড রোলার চালিয়ে বিপুল সংখ্যক কাফ সিরাপের বোতল নষ্ট করা হয়। এর আগে ২ সেপ্টেম্বর বালুরঘাটেও বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ ধ্বংস করা হয়েছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়।
কাফ সিরাপের অপব্যবহার নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরেও সতর্কতা জারি রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু কাফ সিরাপের ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি না করার বিষয়ে কড়া নির্দেশিকা রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের ওষুধ ব্যবহার বিপজ্জনক হতে পারে বলেও বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেছেন।
বাগুইআটির ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন, এত বিপুল পরিমাণ কাফ সিরাপ কেন এবং কার জন্য মজুত করা হয়েছিল। পুলিশ গোডাউনের নথিপত্র, ওষুধের সরবরাহ সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। তদন্ত এগোলেই এই ‘বেআইনি ভাণ্ডার’-এর পিছনে থাকা গোটা চক্র সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
