নিউজ ডেস্ক: রাস্তায় হঠাৎ চোখ পড়লে যে কারও মনে হতে পারে কোনো কল্পবিজ্ঞানের দৃশ্য অথবা কোনো আস্ত একটি কারখানা নিজেই চাকা লাগিয়ে পথে চলতে শুরু করেছে। সামাজিক মাধ্যমে বেশ কয়েকদিন ধরেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সেই সুবিশাল ‘বাহুবলী’ ট্রাক অবশেষে বিহারের সীমানা পেরিয়ে উত্তরপ্রদেশে প্রবেশ করেছে। সাধারণ লরি বা ট্রেলারের সঙ্গে এর কোনো তুলনাই চলে না। এই দানবীয় যানে রয়েছে গুনে গুনে ৩০৮টি চাকা। পিঠে চেপে রয়েছে ২০০ টনেরও বেশি ওজনের এক বিশালাকার ভ্যাকুয়াম বয়লার। গন্তব্য, উত্তরপ্রদেশের বলরামপুর সুগার মিল।
এই যন্ত্রটির মহাযাত্রা শুরু হয়েছিল সমুদ্রপথে সুদূর বেলজিয়াম থেকে। তারপর জাহাজে চেপে ওড়িশার পারাদীপ বন্দরে এসে পৌঁছায় এই ভারী শিল্পযন্ত্রটি। কিন্তু কীভাবে জলপথের পর স্থলপথে প্রায় হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এটিকে নির্দিষ্ট কারখানায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব, সেটাই আসল চ্যালেঞ্জ।
https://x.com/theupindex/status/2103832198893969522
ভারতীয় সড়ক পরিকাঠামোয় এত বড় ও ভারী ওজনের যন্ত্র পরিবহন প্রায় নজিরবিহীন। অবশেষে বিশেষভাবে নকশা করা ৩০৮ চাকার হাইড্রোলিক মডুলার ট্রেলারে চাপিয়ে শুরু হয় ধীরগতির এই যাত্রা।
গতি ঘণ্টায় মাত্র কয়েক কিলোমিটার। কিন্তু তাকে ঘিরে ব্যস্ততা যেন তুঙ্গে। ট্রেলারের বহর এতটাই চওড়া ও উঁচু যে স্বাভাবিক ট্রাফিক সামলে এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া একপ্রকার লজিস্টিকাল পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইঞ্জিনিয়ার ও প্রশাসনের কাছে। পথ চলতি মানুষ হাঁ করে দাঁড়িয়ে দেখছেন এই দৃশ্য, বহু জায়গায় সাধারণ মানুষ মুঠোফোনে ছবি আর ভিডিও তুলতে ভিড় জমাচ্ছেন।
সবচেয়ে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বিহারের কায়মুরে। সেখানে একটি ফুট ওভারব্রিজের উচ্চতা এতটাই কম ছিল যে তার তলা দিয়ে এই বিশাল যন্ত্র গলিয়ে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। শেষমেশ ঝুঁকি না নিয়ে আস্ত ফুট ওভারব্রিজটিকেই সাময়িকভাবে কেটে খুলে ফেলতে হয়।
ট্রেলারটি নির্বিঘ্নে পার হয়ে যাওয়ার পর ফের সেটিকে যথাস্থানে জোড়া লাগানো হয়। বিদ্যুৎ সংযোগের তার থেকে শুরু করে রাস্তার ডিভাইডার যাত্রাপথের প্রতি পদেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ঘটিয়ে তবেই এগোনো সম্ভব হচ্ছে।
কড়া পুলিশি পাহারা এবং বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের দল সার্বক্ষণিক নজরদারিতে পুরো কনভয়টিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। উত্তরপ্রদেশের সীমানায় ঢোকার পরও বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ যান চলাচল স্তব্ধ না হয়। আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা, সমস্ত পরিকাঠামোগত বাধা পেরিয়ে এই 'বাহুবলী' ট্রাক পৌছাবে বলরামপুর চিনি কারখানায়, তবেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। কারণ এত বড় ট্রাক এতদূর ও এত বাঁধা অতিক্রম করে পৌঁছানোটাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আধিকারিকদের কাছে।
