রানাঘাট, নিউজ ডেস্ক: নিস্তব্ধ নিশুতি রাত। যখন বেশিরভাগ মানুষ গভীর রাতে ঘুমে মগ্ন ঠিক তখনই ঘটেছিল এক ভয়ানক ঘটনা। যে ঘটনা রীতিমতো ভয় ধরিয়েছিল রানাঘাট থানা এলাকার মানুষদের। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও ঘটল আরও এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। যা রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে গোটা এলাকায়।
জানা গিয়েছে , গত ২১ তারিখ রাত আনুমানিক ১ টা নাগাদ অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীরা রানাঘাট থানা এলাকায় এক মহিলার দোকানের শাটারে সজোরে লাথি মারে এবং গালিগালাজ করতে থাকে। সেই সময় বাইরে গুলির আওয়াজও পান তিনি। ঘটনার সময় দুষ্কৃতীরা চ্যাঁচামেচি করে হুমকি দিয়ে বলে, রানাঘাটের দাপুটে তৃণমূল নেতা "আনন্দ দের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর কেস তুলে নিতে হবে, না হলে এখন ওয়ার্নিং দিয়ে যাচ্ছি, পরে মার্ডার করে দিয়ে যাবো"। এমন হুমকিই দিতে শোনা যায় বলে অভিযোগ করেন ওই মহিলা। আতঙ্কিত হয়ে ওই মহিলা দুষ্কৃতীদের হুমকির কিছু অডিও রেকর্ডও করে রাখেন। পরেরদিন তিনি তা নিয়ে রানাঘাট থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান পুলিশকে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি অভিযোগও দায়ের করেন তিনি। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ কোনও গুলির প্রমাণ পাননি। এই ঘটনার পর কেটেছিল কিছুটা সময়। সেই রেশ কেটে ওঠার আগেই আরও এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটল।
ঘটনায় নতুন মোড় নেয় শনিবার, যখন ওই মহিলা তাঁর দোকানের পাশে টবে এবং ড্রামে থাকা উচ্ছে গাছে থেকে উচ্ছে তুলতে যান। ড্রামের ভেতরের পাতা সরাতেই তিনি সেখানে একটি তাজা গুলির খোল পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর তড়িঘড়ি এলাকার এক পরিচিত ব্যক্তিকে তিনি বিষয়টি জানান। খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়রাও ঘটনাস্থলে জড়ো হন। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। সকলে ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় কুপার্স ফাঁড়ি ও রানাঘাট থানায় পুলিশ। ড্রামের ভেতর থেকে পড়ে থাকা গুলির খোল বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং দুষ্কৃতীদের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনা নেপথ্যে কারা রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জনবহুল এলাকায় তাজা গুলির খোল পড়ে যা রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে গোটা এলাকায়। সকলের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার হয়েছে। হুমকির অডিও এবং উদ্ধার হওয়া গুলির খোল দুই সূত্র সামনে রেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দুষ্কৃতীদের পরিচয় ও হামলার নেপথ্যে আসল কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
