পুরুলিয়া, নিউজ ডেস্ক: একদিকে জটিল অসুখ, অন্যদিকে আর্থিক অনটন। দীর্ঘ যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে আসা এক রোগীর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত মিলল স্বস্তির খবর। শুধুমাত্র চিকিৎসায় সাফল্য নয়, হাসপাতাল থেকে রোগীর ছুটি পাওয়ার পর রোগী যাতে নিরাপদে নিজের বাড়িতে ফিরতে পারেন সেই দায়িত্ব নিলেন চিকিৎসক নিজেই। পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এই ঘটনাই প্রশংসিত চিকিৎসকদের উদ্যোগ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝালদা ১ নম্বর ব্লকের বিরুডি গ্রামের বাসিন্দা ৫৮ বছরের বিরাজ কুমার দীর্ঘ প্রায় দশ বছর ধরে পেটের যন্ত্রণায় ভুগছিলেন তিনি পেশায় ছিলেন একজন দুধ বিক্রেতা। বিভিন্ন জায়গাতে চিকিৎসা করিয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি। পরবর্তীতে, দেবেন মাহাতো মেডিকেল কলেজের শল্যচিকিৎসক ড: পবন মণ্ডলের কাছে জান তিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা গিয়েছে তাঁর প্যানক্রিয়াসে টিউমার তৈরি হয়েছে এবং সেটি ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি জটিল হলেও অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা। ডক্টর পবন মণ্ডলের নেতৃত্বে তৈরি হয় বিশেষ মেডিকেল টিম।
জানা গিয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা ধরে চলে অতীব ঝুঁকিপূর্ণ এই অস্ত্রোপচার। চিকিৎসকদের দীর্ঘ লড়াইয়ে সফল হয় অপারেশন। ক্যান্সারমুক্ত হন বিরাজবাবু এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। চিকিৎসকদের দাবি, বর্তমানে তিনি একেবারেই সুস্থ। শুধুমাত্র অস্ত্রোপচারের সাফল্যই নয় চিকিৎসক পবন মণ্ডলের উদ্যোগও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর নিজের গ্রামে ফেরার জন্য রোগীর পরিবার যাতে অতিরিক্ত চাপে না পড়েন, সেই কারণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাড়ি ভাড়া করে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন চিকিৎসক। চিকিৎসক পবন মণ্ডল জানান “বিরাজবাবু অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মানুষ, দুধ বিক্রি করে সংসার চালান। ওনার অপারেশন সফল হয়েছে এবং উনি সম্পূর্ণ সুস্থ। আজ ওনাকে ছুটি দেওয়া হলো। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাড়ি ভাড়া করে ওনাকে নিজের গ্রামে পৌঁছে দিচ্ছি।”
মাত্র ছয় বছর আগে পথ চলা শুরু করা এই মেডিকেল কলেজে পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার পরেও এমন জটিল অস্ত্রপাচারকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দেবেন মাহাতো গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি ডক্টর সুকমল বিষয়ী, ডক্টর পবন মণ্ডল এবং তাঁর টিমকে অভিনন্দন জানান। সব মিলিয়ে প্রান্তিক সরকারি হাসপাতালের সীমিত পরিকাঠামো নিয়েও চিকিৎসকদের নিষ্ঠা ও দক্ষতা কীভাবে মানুষের ভরসার জায়গা হয়ে উঠতে পারে, পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল তারই প্রমাণ দিল। ফলে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পরিষেবা নিয়ে এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আস্থা তৈরি করেছে।
