ঢাকা: বাংলাদেশের ময়মনসিংহে একটি জলাশয় থেকে ড্রামের ভিতরে এক ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০)। তিনি ত্রিশাল উপজেলার বাসিন্দা এবং একটি সোনার দোকানের যৌথ মালিক ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গত বুধবার। ময়মনসিংহের বেগুনবাড়ি এলাকায় একটি জলাশয়ে একটি বড় ড্রাম ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। সন্দেহ হওয়ায় ড্রামটি জল থেকে পাড়ে তুলে আনা হয়। সেটি খুলতেই ভিতরে একটি মৃতদেহ দেখতে পাওয়া যায়। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে তদন্তে মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নিরঞ্জনকে হত্যার পর তাঁর দেহ বস্তাবন্দি করে ড্রামের ভিতরে ঢোকানো হয়েছিল। এরপর ড্রামটি জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের ধারণা। তবে ঠিক কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে এবং এই ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মৃতের পরিচয় শনাক্ত করতে তদন্তকারীদের সাহায্য করে তাঁর পকেটে থাকা একটি টোকেন। সেটি ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের বলে জানা যায়। সেই সূত্র ধরে এলাকায় খোঁজখবর শুরু করে পুলিশ। পরে নিরঞ্জনের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর স্ত্রী সুমিতা রানি সূত্রধর এবং ছেলে জয় সূত্রধর দেহ শনাক্ত করেন।
পরিবারের দাবি, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন নিরঞ্জন। পরদিন অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে স্টেডিয়াম এলাকায় দেখা গিয়েছিল বলে জানা যায়। তার পরের দিনই জলাশয় থেকে ড্রামের ভিতরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ফলে নিখোঁজ হওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। নিরঞ্জনের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক, সাম্প্রতিক যোগাযোগ এবং নিখোঁজ হওয়ার আগের গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কারও আর্থিক বা ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও পুলিশ নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি।
এদিকে, এই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি পোস্ট করেন। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। তবে তাঁর পোস্টে ব্যবহৃত কিছু মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য; ঘটনাটির তদন্তে এখনও হত্যার উদ্দেশ্য বা সাম্প্রদায়িক যোগের কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়টি বারবার সামনে এসেছে। তবে নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরের হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
ড্রামের ভিতরে ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ইতিমধ্যেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এখন পুলিশের তদন্তের দিকেই নজর নিরঞ্জনের নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যে কী ছিল, কারা তাঁকে শেষবার দেখেছিল এবং কীভাবে তাঁর দেহ ড্রামের ভিতরে জলাশয়ে পৌঁছল, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।
