কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। রবিবার এই ইস্যুতে তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার জন্য বিজেপি বা নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করা ঠিক নয়। এই নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ার পিছনে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং তার ভিত্তিতে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।
শুভেন্দু দাবি করেন, SIR নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস একাধিকবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করেছিল। তাঁর কথায়, ওই আধিকারিকদের মাধ্যমেই বহু নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
শুভেন্দুর বক্তব্য, “পশ্চিমবঙ্গে ২৭ লক্ষ নাম বাদের দায় বিজেপি বা কমিশনের নয়।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা শুধুমাত্র মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের একক সিদ্ধান্ত নয়।
শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ সাংবাদিক বৈঠক করে SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিল। কমিশনের তরফে জানানো হয়, তিন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে আলোচনা করেই সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য আসার পরই সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শুভেন্দু।
তিনি বলেন, তিন কমিশনারের একসঙ্গে থাকার ছবি থেকেই স্পষ্ট যে SIR-এর সিদ্ধান্ত একজনের একক সিদ্ধান্ত ছিল না। একইসঙ্গে কেরল ও পশ্চিমবঙ্গে SIR নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে কংগ্রেস এবং বামেদের প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল SIR নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। বিহারে SIR-এর সময় থেকেই এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরপর পশ্চিমবঙ্গ নিয়েও তৃণমূল একাধিকবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল বলে দাবি করেন শুভেন্দু।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের ক্ষমতার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসে এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এই প্রসঙ্গেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “আপনার কথা শুনেই তো সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।”
তবে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখানেই থামছে না। SIR-এর ফলে কত নাম বাদ পড়েছে, কেন বাদ পড়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় কী কী যাচাই করা হয়েছে, এই বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। একদিকে নির্বাচন কমিশন নিজেদের সিদ্ধান্তের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।
ফলে পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে SIR ইস্যু যে রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট। ২৭ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার দাবি ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্কে আগামী দিনে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং আদালতের অবস্থান নিয়েও নজর থাকবে।
