কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ফের বিতর্কে জড়ালেন নওদার বিধায়ক তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। রেজিনগর উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে অত্যন্ত কড়া মন্তব্য করলেন তিনি। প্রকাশ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত মৃত্যু কামনা করার কথা জানিয়েছেন হুমায়ুন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
রবিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় নিশানা করে হুমায়ুন বলেন, 'ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে অহংকার তৈরি হয়েছে। তিনি হাতির পাঁচ পা দেখেছেন, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চলছে এই আমলে। আমাদের অসম্মান করলে ক্ষমতাচ্যুত হতে হবে। আমি চাই মুখ্যমন্ত্রী থেকে উনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যান। এরপরই ঈশ্বরের কাছে তাঁর দ্রুত পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার প্রার্থনা করবেন বলে জানান AJUP নেতা। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে দেশের একাধিক প্রাক্তন রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুর প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী এবং মাধবরাও সিন্ধিয়ার মৃত্যুর উদাহরণও দেন হুমায়ুন।
নিজের দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই সরব হন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ, AJUP কর্মীদের একাধিক মামলায় জড়ানো হচ্ছে এবং পুলিশের তৎপরতার কারণে দলের কর্মীরা সমস্যায় পড়ছেন। সেই প্রসঙ্গেই এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন তিনি। হুমায়ুনের কথায়, 'আমাদের পুলিশ দিয়ে রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে, আমরা রাত জেগে জেগে লুকিয়ে বেড়াচ্ছি, চুরি করে বেড়াচ্ছে আমাদের কর্মীরা। তারা কী করবে? ওঁর জন্য উপরওয়ালার কাছে দোয়া চাইব, যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে চলে যায়। আল্লা তার টিকিট কাটিয়ে দিক। এত অহংকার, অহংকারের পতন হবে।'
হুমায়ুনের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া। বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও কোনও ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা যায় কি না। একইসঙ্গে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, 'বাংলার রাজনীতিতে সৌজন্যতা এখন নিম্নমানে চলে গিয়েছে। এত নির্লজ্জভাবে কেউ এমন বলতে পারে, ভাবতেই পারিনি। হতে পারে উনি শুভেন্দু অধিকারীকে পছন্দ করেন না, ওঁর নীতি অপছন্দ হতে পারে। কিন্তু কারও মৃত্যুকামনা করা যায়? তীব্র নিন্দা করছি।
এর আগেও হুমায়ুন কবীরের বিভিন্ন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে সেই বিতর্ককে সামনে নিয়ে এল।
