উত্তরপ্রদেশ, নিউজ ডেস্ক : মরসুমের শেষলগ্নে এসে রুদ্রমূর্তি ধারণ করল বর্ষা। একটানা মুষলধারে বৃষ্টিতে পূর্ব ও মধ্য ভারতের একাধিক রাজ্যে কার্যত বিপর্যয় নেমে এসেছে। নদী-নালা উপচে জনপদ প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি জলের তলায় চলে গিয়েছে মাইলের পর মাইল কৃষিজমি। গত ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টি, দেওয়াল ধস ও বজ্রপাতের মতো দুর্যোগে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গৃহহীন হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে উত্তরপ্রদেশে। সেখানে গত দু’দিনে দুর্যোগের বলি হয়েছেন অন্তত ১৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৫ জন।
রাজ্যের ৭৫ টি জেলার মধ্যে ৬৩ টিতেই স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে গড়ে ৫২.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও বহু এলাকায় তা ২০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে যায়। লখিমপুর খেরিতে সর্বোচ্চ ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অযোধ্যায় ২ জন এবং আমেঠি, বাহরাইচ, বান্দা, বারাবাঁকি, বস্তি, ফতেহপুর, হামিরপুর, হারদই ও কানপুর নগরে ১ জন করে প্রাণ হারিয়েছেন। বাহরাইচে দেওয়াল চাপা পড়ে এবং বস্তিতে বজ্রঝড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
প্রবল বৃষ্টিতে উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ খরিফ শস্য নষ্ট হয়েছে। জমি জলমগ্ন থাকায় আসন্ন রবি শস্যের বীজ বপন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকেরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। উন্নাওয়ের বসিরাতগঞ্জ টোল প্লাজার কাছে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে জল জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ওড়িশাতেও। সেখানে ভারী বৃষ্টির কবলে পড়েছেন ১০ টি জেলার ৭৩ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা।
প্রশাসন ইতিমধ্যেই ৪০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। দক্ষিণ ওড়িশার কোরাপুট, নবরংপুর, মালকানগিরি, রায়গড়া, গঞ্জাম ও গজপতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৮০টি ব্লক, ৩২৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ১,০৭১টি গ্রাম এবং ১০টি পুরসভার ৪৯টি ওয়ার্ডে দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। অন্তত ৭২১টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৪,৪৮০ হেক্টর জমির ফসল জলের তলায়।
ছত্রিশগড়েও অবিরাম বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোণ্ডাগাঁওয়ে প্লাবিত ধানজমিতে মাছ ধরতে গিয়ে ফুলে ওঠা নালায় ভেসে মৃত্যু হয়েছে এক ৪০ বছর বয়সি কৃষকের। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোণ্ডাগাঁও, দান্তেওয়াড়া, বিজাপুর, কাঁকের, বস্তার, গরিয়াবন্দ, ধামতারি এবং দুর্গ এই আট জেলায় সমস্ত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থগিত রাখা হয়েছে সরকারি স্কুলের ত্রৈমাসিক পরীক্ষাও। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বহু মানুষ কার্যত গৃহবন্দি। প্রাণহানি ও বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে তিন রাজ্যের সাধারণ মানুষ এখন জল নামার অপেক্ষায়।
