স্পোর্টস ডেস্ক: ব্যাট হাতে শতরান, বল হাতে ছয় উইকেট! রঞ্জি ট্রফিতে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করে নজির গড়লেন মুশির খান। সরফরাজ খানের ছোট ভাইয়ের দাপটে হরিয়ানার বিরুদ্ধে চালকের আসনে মুম্বই। ২১ শতকে প্রথম মুম্বই ক্রিকেটার হিসাবে একই ম্যাচে শতরান এবং ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন ২১ বছরের মুশির। এর আগে মুম্বইয়ের হয়ে এই কীর্তি গড়েছিলেন রবি শাস্ত্রী। ১৯৯০-৯১ মরসুমে শেষ বার এমন নজির দেখা গিয়েছিল। দীর্ঘ ৩৬ বছর পরে সেই তালিকায় নতুন নাম সংযোজন করলেন মুশির।
মুম্বইয়ের বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সের মাঠে রঞ্জি ট্রফির এলিট গ্রুপ ডি-র ম্যাচে হরিয়ানার বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৪৩০ রান তোলে মুম্বই। দলের হয়ে ১০৯ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন মুশির। ব্যাট হাতে দলকে বড় রান এনে দেওয়ার পরে বল হাতেও প্রতিপক্ষের ব্যাটিংকে তছনছ করে দেন তিনি। হরিয়ানার প্রথম ইনিংসে ৮৫ রান দিয়ে ছয় উইকেট তুলে নেন এই বাঁহাতি স্পিনার। হরিয়ানার প্রথম পাঁচটি উইকেটই তাঁর শিকার। মুশিরের এই পারফরম্যান্সের সুবাদে হরিয়ানার প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৭০ রানে। ১৬০ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় মুম্বই।
হরিয়ানার হয়ে একাই লড়াই করেন নিশান্ত সিন্ধু। ২৫১ বল খেলে ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি চার এবং একটি ছয়। দলের অন্য ব্যাটারেরা মুশিরের স্পিন সামলাতে ব্যর্থ হন। মুম্বইয়ের স্পিনার তনুশ কোটিয়ানও তিনটি উইকেট তুলে নেন। ফলে প্রথম ইনিংসে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে হরিয়ানা।
এর পর ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্ত নেয় মুম্বই। দ্বিতীয় ইনিংসেও হরিয়ানার ব্যাটিংয়ে ধস নামানোর চেষ্টা করেন মুশির। তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় দ্বিতীয় ইনিংসে হরিয়ানার রান ছিল দুই উইকেটে ৭৩। অর্থাৎ, মুম্বইয়ের প্রথম ইনিংসের রান টপকাতে এখনও ৮৭ রান প্রয়োজন হরিয়ানার। হাতে রয়েছে আটটি উইকেট। শেষ দিনে পিচের অবস্থা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ফলে ম্যাচ জিতে টানা তৃতীয় জয় এবং বোনাস পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে মুম্বইয়ের সামনে।
ম্যাচের পরে পিচের চরিত্র নিয়ে মুশির বলেন, ‘উইকেটের গতি অনেক কমে গিয়েছে। আমাদের স্পিনারেরা এমন জায়গায় বল করার চেষ্টা করছে, যেখানে বল বেশি লাফাচ্ছে এবং ঘূর্ণি পাওয়া যাচ্ছে।’
মাত্র ২১ বছর বয়সেই মুশিরের এই পারফরম্যান্স ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। ব্যাটিং এবং বোলিং—দুই বিভাগেই দলের প্রয়োজনে অবদান রাখার ক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি। বড় ভাই সরফরাজ খান ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেটে পরিচিত নাম। এ বার নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলাদা পরিচিতি তৈরি করছেন মুশিরও।
মুম্বই ক্রিকেটে অতীতে এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের নজির রয়েছে। ১৯৯০-৯১ মরসুমে রবি শাস্ত্রী একই ম্যাচে শতরান এবং পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। তার পর থেকে ২১ শতকে আর কোনও মুম্বই ক্রিকেটার একই ম্যাচে এই দুই কীর্তি গড়তে পারেননি। এত দিন পরে সেই নজির স্পর্শ করলেন মুশির। তাঁর এই পারফরম্যান্স শুধু মুম্বইকে ম্যাচে এগিয়ে রাখেনি, ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
এ দিকে, চলতি রঞ্জি ট্রফিতে বাংলাও জয়ের পথে এগোচ্ছে। কেরলের বিরুদ্ধে ৩৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষে চার উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান করেছে কেরল। বাংলার বাঁহাতি স্পিনার প্রদীপ্ত প্রামাণিক দ্বিতীয় ইনিংসে চারটি উইকেট নিয়েছেন। প্রথম ইনিংসে মহম্মদ শামির তিন উইকেট এবং প্রদীপ্তের চার উইকেটের সৌজন্যে কেরলকে ১৪১ রানে আটকে দিয়েছিল বাংলা। ফলে ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলার সামনে ভালো সুযোগ রয়েছে।
রঞ্জি ট্রফির এই মরসুমে মুশির খানের পারফরম্যান্স তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এক দিকে ব্যাট হাতে শতরান, অন্য দিকে বল হাতে ছয় উইকেট—একই ম্যাচে দুই বিভাগের এমন দাপট দেখিয়ে মুম্বইয়ের ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন তিনি।




