নিউজ ডেস্ক: দলবদলের অভিযোগে সাংসদপদ খারিজের মুখে থাকা ২০ জন NCPI সাংসদ ফের সময় চাইলেন। ৮ অক্টোবরের মধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে জবাব দেওয়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু সেই সময়সীমার মধ্যেও উত্তর জমা দিতে পারেননি কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়-সহ ২০ সাংসদ। এবার আরও দু’সপ্তাহ সময় চেয়ে স্পিকারের দফতরে ই-মেইল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের জুনে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার স্পিকারের কাছে ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন। অভিযোগ, তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হওয়ার পর ওই সাংসদরা দল ছেড়ে NCPI-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং বিজেপি-নেতৃত্বাধীন NDA-কে সমর্থন করছেন।
এই আবেদনের পর লোকসভা সচিবালয় সাংসদদের নোটিস দিয়ে জানতে চায়, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী দলত্যাগবিরোধী আইন কার্যকর হবে না এবং কেন তাঁদের সাংসদপদ বাতিল করা হবে না। সাংসদদের দাবি, তাঁদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ ও আইনি প্রস্তুতির জন্য সময় দরকার।
এর আগে একাধিকবার সময় চেয়েছেন তাঁরা। প্রথমে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে তিন সপ্তাহ এবং আরও পরে চার সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত স্পিকারের দফতর তাঁদের ১৫ দিন অতিরিক্ত সময় দেয় এবং ৮ অক্টোবরকে জবাব জমা দেওয়ার শেষ দিন হিসেবে নির্ধারণ করে।
কিন্তু সেই ডেডলাইনও পেরিয়ে গেল। সূত্রের খবর, NCPI-এর সংসদীয় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। প্রথমে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া সময়সীমার কথা তুলে ধরে আরও সময় চাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পরে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টও হস্তক্ষেপ করেছে। শীর্ষ আদালত স্পিকারের কাছে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির প্রত্যাশা জানিয়েছে। তবে ৮ অক্টোবরের সময়সীমা স্পিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ডেডলাইন নয়; এটি মূলত ২০ সাংসদের জবাব জমা দেওয়ার সময়সীমা।
ফলে এখন নজর স্পিকারের দফতরের দিকে। ফের দু’সপ্তাহ সময় মিলবে কি না, নাকি এবার জবাব না দেওয়ার বিষয়টি অন্যভাবে দেখা হবে—সেটাই বড় প্রশ্ন। কারণ শেষ পর্যন্ত এই ২০ সাংসদের ভবিষ্যৎ শুধু একটি রাজনৈতিক দলবদলের প্রশ্ন নয়, সংসদে তাঁদের সদস্যপদ টিকে থাকবে কি না, সেই প্রশ্নও এখন সামনে।
