বাদ গেল না শেষ দিনও। বাদল অধিবেশনের শেষ দিনেও বৃহস্পতিবার সংসদ চত্বরে ফের মুখোমুখি এনডিএ এবং বিরোধী শিবিরের সাংসদেরা। দু’পক্ষের স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, সে জন্য দুই শিবিরের মাঝে দাঁড়িয়ে পড়েন নিরাপত্তারক্ষীরা। দিল্লিতে লাঠিচার্জের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি এবং আলোচনা চেয়ে এ দিন সরব হয় বিরোধীরা। রামমন্দিরে দেওয়া অনুদানের টাকা ‘চুরি’ হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলে আলোচনার দাবি জানানো হয়।
মকরদ্বারের সামনে বিরোধী সাংসদেরা স্লোগান তোলেন, ‘‘অমিত শাহ, সংসদে আসুন’’। পাল্টা ঝাঁপিয়ে পড়ে এনডিএ-ও। ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলনের সময় লাঠিচার্জের প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে স্লোগান দেন শাসক গোষ্ঠীর সাংসদেরা। ফলে সংসদের সিঁড়ির কাছে কার্যত দু’পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শন শুরু হয়ে যায়। নিরাপত্তারক্ষীদের মানবপ্রাচীরের মাঝেই চলতে থাকে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। তাঁর দাবি, সংসদে এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখা যায়নি। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও আক্রমণ শানান কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্য, ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থেকেও সরকার যেন ‘নিখোঁজ’। এমনকি এনডিএ-র সাংসদেরা বিরোধীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে সংসদের সিঁড়িতে নেমে এসেছেন বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। কংগ্রেস নেতা কীর্তি আজাদও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুকে নিশানা করে তাঁকে ‘এতটা অকার্যকর’ মন্ত্রী আগে কখনও দেখেননি বলে মন্তব্য করেন।
পাল্টা বিরোধীদের বিরুদ্ধে সংসদের পরিবেশ ‘অস্বাস্থ্যকর’ করে তোলার অভিযোগ তোলেন বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জবাব চাইছিলেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনার জন্য প্রস্তুত হওয়ার পরেও বিরোধীরা শুধু জবাবের দাবিতেই অনড় থেকেছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, বিরোধীদের হাতে বলার মতো কোনও ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’ নেই। বাদল অধিবেশনের শেষ দিনেও তাই সংসদে রাজনীতির উত্তাপ কমার বদলে আরও চড়ল। দুই শিবিরের সংঘাতের ছবি ধরা পড়ল সংসদ চত্বরেই।