JAZZBAAT 24 BANGLA
১৩ অক্টো ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
Breaking
Thorium Nuclear Clock: থোরিয়ামে তৈরি হচ্ছে নতুন পারমাণবিক ঘড়ি মোদী-শাহ-জ্ঞানেশকে তীব্র নিশানা রাহুলের Durga Puja: রাজকীয় ঐতিহ্য ও প্রাচীন আচার বেঁচে থাকে একই ভাবে আজও মল্ল রাজাদের দুর্গা পুজো... Neanderthal: ৬০ হাজার বছর আগেই দাঁতের অস্ত্রোপচার! নিয়ান্ডারথালদের চিকিৎসার প্রমাণ মিলল গ... Smriti Mandhana: ওডিআই ব্যাটিংয়ে শীর্ষে স্মৃতি, প্রথম দশে জায়গা করে নিলেন হরমনপ্রীতও Durga Puja: দেবী দুর্গার বাহন সিংহই কেন? পুরাণে রয়েছে কী ব্যাখ্যা? Durga Puja: প্যান্ডেলে দেবীর চোখ আঁকার মুহূর্ত! চক্ষুদানের রহস্য ও তাৎপর্য Durga Puja: গ্রাম থেকে শিল্পাঞ্চল, বড়জোড়ার পুজোর স্মৃতিতে নতুন উদ্যোগ! চৌমাথা থেকে শিবতল... Thorium Nuclear Clock: থোরিয়ামে তৈরি হচ্ছে নতুন পারমাণবিক ঘড়ি মোদী-শাহ-জ্ঞানেশকে তীব্র নিশানা রাহুলের Durga Puja: রাজকীয় ঐতিহ্য ও প্রাচীন আচার বেঁচে থাকে একই ভাবে আজও মল্ল রাজাদের দুর্গা পুজো... Neanderthal: ৬০ হাজার বছর আগেই দাঁতের অস্ত্রোপচার! নিয়ান্ডারথালদের চিকিৎসার প্রমাণ মিলল গ... Smriti Mandhana: ওডিআই ব্যাটিংয়ে শীর্ষে স্মৃতি, প্রথম দশে জায়গা করে নিলেন হরমনপ্রীতও Durga Puja: দেবী দুর্গার বাহন সিংহই কেন? পুরাণে রয়েছে কী ব্যাখ্যা? Durga Puja: প্যান্ডেলে দেবীর চোখ আঁকার মুহূর্ত! চক্ষুদানের রহস্য ও তাৎপর্য Durga Puja: গ্রাম থেকে শিল্পাঞ্চল, বড়জোড়ার পুজোর স্মৃতিতে নতুন উদ্যোগ! চৌমাথা থেকে শিবতল...

‘মৃত্যু নিশ্চিত ভেবেছিলাম’, পাহাড় থেকে নামল জল-কাদা, চোখের সামনে ভেসে গেল বাস!

‘মৃত্যু নিশ্চিত ভেবেছিলাম’, পাহাড় থেকে নামল জল-কাদা, চোখের সামনে ভেসে গেল বাস!

চেন্নাই: কয়েক মুহূর্ত আগেও সব স্বাভাবিক ছিল। পাহাড়ি রাস্তা ধরে এগোচ্ছিল তিনটি বাস। তীর্থযাত্রীরা কেউ গল্প করছিলেন, কেউ জানলার বাইরে তাকিয়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখছিলেন। আচমকাই বদলে গেল দৃশ্যপট। পাহাড়ের উপর থেকে প্রবল জল, কাদা আর পাথরের স্রোত নেমে এল তীব্র গতিতে। চোখের সামনে ভেসে গেল দু’টি বাস। বাঁচার জন্য তখন গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে উঁচু পাহাড়ের দিকে ছুটলেন যাত্রীরা। কয়েক মিনিটের সেই লড়াই তাঁদের কাছে যেন কয়েক ঘণ্টার সমান। নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান থেকে প্রাণে বেঁচে তামিলনাড়ু ফিরেছেন ২১ জন তীর্থযাত্রী। শুক্রবার চেন্নাই বিমানবন্দরে নামার পর তাঁদের মুখে একটাই কথা—‘‘এটা যেন দ্বিতীয় জন্ম।’’

কাইলাস-মানস সরোবর যাত্রায় বেরিয়েছিলেন তাঁরা। মোট ৬০ জনের একটি দল তিনটি বাসে করে এগোচ্ছিল। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে আচমকাই ভয়াবহ বিপর্যয়। প্রবল স্রোতে কাদা, পাথর, গাছের গুঁড়ি—সব কিছু মিশে নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে রাস্তা পরিণত হয় মৃত্যুফাঁদে। সেই স্রোতে ভেসে যায় কনভয়ের দু’টি বাস। তৃতীয় বাসের যাত্রীরা কোনও মতে বেরিয়ে পাহাড়ের উঁচু জায়গায় উঠে প্রাণে বাঁচেন।

বেঁচে ফেরা তীর্থযাত্রীদের এক জন বিজয়ভুবনেশ্বরী এখনও সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে শিউরে উঠছেন। তাঁর কথায়, বিপর্যয় এত দ্রুত এসেছিল যে কী হচ্ছে, তা বোঝার সময়ই পাননি তাঁরা। প্রথমে প্রচণ্ড শব্দ। তার পরেই চারপাশে জল-কাদা-পাথরের তাণ্ডব। যাত্রীরা বুঝে যান, বাসে বসে থাকলে আর বাঁচার সম্ভাবনা নেই। প্রাণের তাগিদে বাস থেকে বেরিয়ে পাহাড়ের দিকে ছুটতে শুরু করেন তাঁরা।

‘‘আমরা বাস থেকে লাফ দিয়ে বেরিয়ে পাহাড়ে উঠতে শুরু করি। তখন শুধু মনে হচ্ছিল, কোনও ভাবে উঁচু জায়গায় পৌঁছতে হবে,’’—বেঁচে ফিরে এমনই জানিয়েছেন এক যাত্রী।

কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্রোতের তীব্রতা এতটাই ছিল যে সামনে থাকা যানবাহনগুলিও কার্যত অদৃশ্য হয়ে যায়। তিমুরে একটি গোটা বাজার এলাকা কয়েক মুহূর্তের মধ্যে জলের তোড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে দেখেছেন তাঁরা। যাত্রীরা জানিয়েছেন, চোখের সামনে দোকান, রাস্তা, গাড়ি—সব কিছু জলের সঙ্গে মিশে যেতে দেখে তাঁদের মনে হয়েছিল, আর হয়তো দেশে ফেরা হবে না।

উঁচু জায়গায় উঠে কোনও মতে নিজেদের নিরাপদ রাখেন ২১ জন। পরে উদ্ধারকারী দলের তৎপরতায় তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় কাঠমান্ডুতে। সেখান থেকে দিল্লি হয়ে শুক্রবার চেন্নাই পৌঁছন তাঁরা। বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান তামিলনাড়ুর মন্ত্রীরা। দীর্ঘ আতঙ্কের পর পরিবারের লোকজনকে সামনে পেয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

দিল্লিতে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও। উদ্ধার হয়ে আসা তীর্থযাত্রীদের মুখে সরাসরি শোনেন নেপালের বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতা। তাঁদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত নেপাল সরকার এবং নেপাল সেনাকেও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

তবে ২১ জনের ঘরে ফেরার আনন্দের মধ্যেও পুরোপুরি কাটেনি উদ্বেগ। তামিলনাড়ু সরকারের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্য থেকে বহু মানুষ নেপালে গিয়েছিলেন। তাঁদের একটি অংশ এখনও নেপালে আটকে রয়েছেন বা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। উদ্ধারকাজ চলছে জোরকদমে।

এক দিকে পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডব, অন্য দিকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ২১ জনের কাহিনি—নেপালের এই বিপর্যয় তাঁদের তীর্থযাত্রার স্মৃতিকে চিরতরে বদলে দিয়েছে। ঈশ্বরের দর্শনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন তাঁরা। মাঝপথে দাঁড়িয়ে দেখেছেন প্রকৃতির ভয়ঙ্কর রূপ। বাসের জানলা থেকে পাহাড় দেখার বদলে কয়েক মিনিটের মধ্যে তাঁদের ছুটতে হয়েছে পাহাড়ের দিকেই—প্রাণ বাঁচানোর শেষ আশায়।

চেন্নাই বিমানবন্দরের বাইরে পরিবারের কাছে ফিরে যখন দাঁড়ালেন তাঁরা, তখন তীর্থযাত্রার কথা নয়, বার বার ফিরে আসছিল সেই কয়েক মিনিটের স্মৃতি। জল, কাদা, পাথর, ভেসে যাওয়া বাস—আর তার মধ্যেই বেঁচে থাকার মরিয়া দৌড়। তাঁদের কাছে নেপাল-যাত্রা তাই আর শুধু তীর্থযাত্রা নয়; মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখে ফিরে আসার এক অবিশ্বাস্য কাহিনি।

863 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

মোদী-শাহ-জ্ঞানেশকে তীব্র নিশানা রাহুলের
দেশ

মোদী-শাহ-জ্ঞানেশকে তীব্র নিশানা রাহুলের

নিউজ ডেস্ক: আমরা সবাই এক হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। আলাদা আলাদা নয়, একটাই আন্দোলন চলছে দেশে। সেটা সংবিধান বাঁচানোর এবং গণতন্ত্র বাঁচানোর। গণতান্ত্রিক আন্দোলন দেখানোর একটা জায়গা ছিল যন্তর মন্তর। সেটাও কেড়ে নিয়েছে সরকার। কিন্তু আ...

১৩ অক্টো ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম · 1 মিনিট
'পেশ করতে হবে নির্দিষ্ট তথ্য', বেআইনি আটক নিয়ে আশ্বাস বম্বে হাই কোর্টের
দেশ

'পেশ করতে হবে নির্দিষ্ট তথ্য', বেআইনি আটক নিয়ে আশ্বাস বম্বে হাই কোর্টের

নিউজ ডেস্ক: বেআইনিভাবে কোনও ব্যক্তিকে আটক রাখা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানাল বম্বে হাই কোর্ট। তবে, এই ধরনের আটকের অভিযোগের সমর্থনে নির্দিষ্ট ঘটনার তথ্য আদালতের সামনে পেশ করতে হবে বলে আবেদনকারীকে নির্দেশ দিয়েছে আদা...

১৩ অক্টো ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম · 2 মিনিট
Panama Earthquake : কয়েক দিনের ব্যবধানে ফের ভূমিকম্প,৬.১ মাত্রার কম্পন
দেশ

Panama Earthquake : কয়েক দিনের ব্যবধানে ফের ভূমিকম্প,৬.১ মাত্রার কম্পন

১৩ অক্টোবর ভোরে পানামায় ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, ভারতীয় সময় ভোর ৪ টা ৫০ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে কম্পন টি রেকর্ড করা হয়।

১৩ অক্টো ২০২৬, ০৫:০২ পিএম · 2 মিনিট
CJP : 'ভিন্নমত দমনে ভয়, নাকি গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা?’ যন্তর মন্তর বিতর্কে কেন্দ্রকে তীব্র কটাক্ষ CJP-র
দেশ

CJP : 'ভিন্নমত দমনে ভয়, নাকি গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা?’ যন্তর মন্তর বিতর্কে কেন...

ভিন্নমত থামাতে যদি সরকারকে যন্তর মন্তরের মতো ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থলের স্বীকৃতিই বাতিল করতে হয়, তাহলে তারা নিজেরাই নিজেদের সবচেয়ে বড় ভয়টা প্রকাশ করে দিয়েছে। তাদের ভয় এমন এক জনতাকে, যারা চুপ হতে রাজি নয়; তাদের ভয় এমন এক গণতন্ত্রকে, যাকে তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।”

১৩ অক্টো ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম · 1 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.