কলকাতা, স্নিগ্ধা চৌধুরী: কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এখনও আতঙ্ক কাটেনি আবাসিকদের। মঙ্গলবার গভীর রাতে আগুন লাগার পর প্রাণ হাতে করে হোটেল থেকে বেরিয়ে আসেন বহু মানুষ। তাঁদের কথায়, কয়েক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, হয়তো আর বেঁচে ফেরা সম্ভব হবে না। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
রাত তখন প্রায় পৌনে ২টো। অধিকাংশ আবাসিকই গভীর ঘুমে। কেউ চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন, কেউ আবার অন্য কাজে শহরে এসেছিলেন। আচমকাই ঘুম ভাঙে ধোঁয়ায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। কীভাবে প্রাণ বাঁচাবেন, বুঝে উঠতে পারছিলেন না কেউ।
হোটেলের চারতলায় থাকা মহম্মদ আমিরুল ও ইজাজ আহমেদের অভিজ্ঞতা আরও ভয়াবহ। তাঁদের কথায়, ঘরের জানলা খোলা রেখেই তাঁরা ঘুমোচ্ছিলেন। হঠাৎ ধোঁয়ায় ঘুম ভেঙে যায়। জানলার কাছে গিয়ে তাঁরা দেখেন, চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। নিচের তলায় তখন আগুন জ্বলছে। সঙ্গে সঙ্গে পাশের ঘরের আবাসিকদের সতর্ক করার চেষ্টা করেন তাঁরা। হোটেলের কর্মীদের ডাকাডাকি করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
লিফট বন্ধ থাকায় সিঁড়ি দিয়েই নেমে আসার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। কিন্তু সেখানেও অপেক্ষা করছিল ভয়াবহ বিপদ। সিঁড়িতে তখন দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। তাঁদের কথায়, “এক মুহূর্তে মনে হয়েছিল, আর হয়তো ঘরে ফেরা হবে না।” শেষ পর্যন্ত দমকল ও পুলিশকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করেন।
আর এক আবাসিকের কথায়, “মৃত্যুকে যেন কাছ থেকে দেখলাম।” তাঁর দাবি, সেই মুহূর্তে প্রত্যেকেই নিজের মতো করে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন। অনেকে জানলা দিয়ে ঝাঁপ দেওয়ার কথাও ভাবছিলেন। এমনকি এক ব্যক্তি ধোঁয়ার মধ্যে জানলা থেকে ঝাঁপ দেন বলেও জানা গিয়েছে।
আবাসিকদের অভিযোগ, ওই এলাকায় একাধিক ছোট হোটেল অত্যন্ত ঘিঞ্জি পরিবেশে চলছে। অনেক ঘরের আয়তন মাত্র ৮ ফুট বাই ৮ ফুট। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে বেআইনিভাবে চলা হোটেলগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হোক। তাঁদের আশঙ্কা, ব্যবস্থা না নিলে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটতেই থাকবে।
অগ্নিকাণ্ডের পর ওই বিল্ডিং থেকে প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর। এখন তদন্তের পাশাপাশি উঠছে আরও একটি বড় প্রশ্ন, নগরীর বুকে এমন ঝুঁকিপূর্ণ হোটেলগুলি কীভাবে চলছিল?