তৃণমূলের মোট তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যেই ফ্রিজ করেছে ইডি। দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ওই অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহার করার আর্জি জানিয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। যেখানে সর্বমোট প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে। কিন্তু এখানেও ধাক্কা পেল দল।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, মূল মামলায় এই মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করা হবে না। আগামী মঙ্গলবার কালীঘাট তৃণমূল এবং ইডি উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন বিচারপতিএম. এম. সুন্দরেশের বেঞ্চ। সোমবার শুনানিতে দলের পক্ষের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নিত্যদিনের খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অপর আইনজীবী মেনোকা গুরুস্বামীর দাবি দলের ২১৫ জন কর্মীর বেতনও বকেয়া রয়েছে।
অন্যদিকে, বিপক্ষীয় অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস. ভি. রাজু এই দাবি খণ্ডন করে বলেন, কালীঘাট তৃণমূলের কাছে এখনও অন্তত ১৬৪ কোটি টাকা রয়েছে। তারপরই বিচারপতি জানতে চান, দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত প্রশাসকের মাধ্যমে সীমিত অর্থ ব্যবহারের কোনও ব্যবস্থা করা যায় কি না। তবে এ বিষয়ে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট।
যদিও এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেছিল কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ইডির সিজ করা তিনটি অ্যাকাউন্ট আপাতত বন্ধ থাকবে এবং ওই অর্থ কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। তারপরেই কালীঘাট তৃণমূল আবেদন করে সুপ্রিম কোর্টে।
প্রসঙ্গত পৃথক একটি মামলায় পুলিশের নির্দেশে ফ্রিজ হয়েছিল দলের অন্য কিছু ব্যাংক একাউন্ট। তবে তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কলকাতা হাইকোর্ট শত সাপেক্ষ অনুমতি দিয়েছে। আদালত নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের তত্ত্বাবধানে আগামী ৩০ শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ওই একাউন্ট থেকে খরচ চালানোর অনুমতি রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট একাউন্টের অনুমোদিত সাক্ষরকারীদের মধ্যে যেকোনো দুজনের সই করা চেকে স্পেশাল অফিসারের পাল্টা স্বাক্ষরের পরেই ব্যাংক থেকে তোলা যাবে টাকা। কালীঘাট তৃণমূল এই অ্যাকাউন্টের টাকা প্রশাসনিক ব্যয়ের পাশাপাশি আইনি খরচ মেটানোর কাজেও ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু ইডি ফ্রিজ করা তিনটি ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সেই ছাড় প্রযোজ্য হয়নি।