JAZZBAAT 24 BANGLA
০৬ নভে ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
Breaking
প্রাণী-পরীক্ষা ছেড়ে মানবদেহনির্ভর গবেষণায় ঝুঁকছে বিশ্ব, উল্টো পথে ভারত! ১১ বছর পরেও মিলল না চাকরি! বয়সের কোপে চিরতরে নিয়োগের দৌড় থেকে বাদ ১ হাজারের বেশি যোগ্য পুরনো মন্দির-মঠের ভোলবদলে ১০০০ কোটি! ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ ঘোষণা শুভেন্দুর Ayodhya Deepotsav 2026 : ৩৩ লক্ষ প্রদীপে সেজে উঠবে অযোধ্যা,আকাশে রামায়ণের ছবি! সানিয়ার পরে মায়া! ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান আমেরিকার নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবা হায়দার, ইলিনয়েসের আইনসভায় প্রথম দক্ষ... লস অ্যাঞ্জেলেসেও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র, ইতিহাস গড়লেন কেরলের নিথ্যা রমন মা কালীর গলায় ৫০টি নরমুণ্ডের মালা কেন থাকে? প্রাণী-পরীক্ষা ছেড়ে মানবদেহনির্ভর গবেষণায় ঝুঁকছে বিশ্ব, উল্টো পথে ভারত! ১১ বছর পরেও মিলল না চাকরি! বয়সের কোপে চিরতরে নিয়োগের দৌড় থেকে বাদ ১ হাজারের বেশি যোগ্য পুরনো মন্দির-মঠের ভোলবদলে ১০০০ কোটি! ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ ঘোষণা শুভেন্দুর Ayodhya Deepotsav 2026 : ৩৩ লক্ষ প্রদীপে সেজে উঠবে অযোধ্যা,আকাশে রামায়ণের ছবি! সানিয়ার পরে মায়া! ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান আমেরিকার নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবা হায়দার, ইলিনয়েসের আইনসভায় প্রথম দক্ষ... লস অ্যাঞ্জেলেসেও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র, ইতিহাস গড়লেন কেরলের নিথ্যা রমন মা কালীর গলায় ৫০টি নরমুণ্ডের মালা কেন থাকে?

বন্ধু নেই, পরিবারেও দূরত্ব, NRI-র আক্ষেপ

বন্ধু নেই, পরিবারেও দূরত্ব, NRI-র আক্ষেপ
ছবি: গ্রাফিক্স ও এআই দ্বারা নির্মিত

নয়াদিল্লি: আমেরিকা ছেড়ে দেশে ফিরেছিলেন আপনজনদের আরও কাছে থাকার আশায়। ভেবেছিলেন, এত বছর পর নিজের দেশে ফিরলে হয়তো পুরনো বন্ধুত্ব, পরিবার আর পরিচিত পরিবেশ তাঁকে ফের আপন করে নেবে। কিন্তু দেশে ফেরার 6 মাস পর তাঁর অভিজ্ঞতা একেবারেই অন্য রকম। পুরনো বন্ধুরা নিজেদের জীবন নিয়ে ব্যস্ত, পরিবারের সঙ্গেও আগের মতো যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে না। আর আমেরিকায় কাটানো জীবনের স্বাধীনতা, নিজস্ব রুটিন বার বার মনে পড়ছে। শেষ পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের আক্ষেপ উজাড় করে লিখলেন ওই প্রবাসী ভারতীয়, ‘‘আমার মনে হচ্ছে, আমি আর এখানে belong করি না।’’

বাবা-মায়ের কাছে ফিরতে চেয়েছিলেন
রেডিটে নিজের অভিজ্ঞতা লিখে ওই ব্যক্তি জানান, দীর্ঘ সময় আমেরিকায় থাকার পর প্রায় 6 মাস আগে ভারতে ফিরে এসেছেন। মূল কারণ ছিল বাবা-মায়ের কাছে থাকা এবং তাঁদের দেখভাল করা। তখন তাঁর মনে হয়েছিল, দেশে ফিরে আসাটাই হয়তো সঠিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু বাস্তবে ফিরে এসে মানিয়ে নেওয়ার লড়াইটা যে এত কঠিন হবে, তা তিনি ভাবতে পারেননি।

‘পুরনো বন্ধুরা আর আগের মতো নেই’
দেশে ফেরার পর সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে সামাজিক সম্পর্কের জায়গায়। তাঁর দাবি, এক সময় যাঁরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, তাঁরা এখন প্রত্যেকেই নিজেদের কাজ, সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ব্যস্ত। দেখা করার জন্য বার বার যোগাযোগ করেও তেমন সাড়া পাচ্ছেন না তিনি।

ওই ব্যক্তির কথায়, ‘‘আমি জানি সবাই ব্যস্ত। সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবন বদলায়। কিন্তু বার বার চেষ্টা করার পর মনে হয়, বন্ধুত্বটা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা শুধু আমিই করছি।’’ সেখান থেকেই তৈরি হয়েছে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি। যে দেশে ফিরে এসে মানুষের ভিড়ে থাকার কথা, সেখানেই নিজেকে একা মনে হচ্ছে তাঁর।

ভাইয়ের সঙ্গেও বদলেছে সম্পর্ক
শুধু বন্ধুত্ব নয়, পরিবারের মধ্যেও আগের মতো ঘনিষ্ঠতা অনুভব করছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন তাঁকে আরও ভাবিয়েছে। ভেবেছিলেন, দেশে ফিরে পরিবারের কাছাকাছি থাকলে সম্পর্কগুলি আরও গভীর হবে। কিন্তু বাস্তবে তাঁর মনে হয়েছে, এত বছর দূরে থাকার ফলে পরিবারের মানুষগুলির জীবনও বদলে গিয়েছে। ফলে একই বাড়ি বা একই শহরে থেকেও মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে এই অভিজ্ঞতাই সামনে এসেছে তাঁর লেখায়।

বার বার মনে পড়ছে আমেরিকার জীবন
দেশে ফেরার পরেও তাঁর মন পড়ে রয়েছে আমেরিকার জীবনে। সেখানে তৈরি হয়েছিল নির্দিষ্ট রুটিন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং একটি পরিচিত সামাজিক পরিমণ্ডল। নিজের জীবনের গতিপথ নিয়েও সেখানে একটি নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছিল। ভারতে ফিরে সেই পরিচিত ছন্দটাই যেন হঠাৎ হারিয়ে গিয়েছে। তাই প্রশ্ন জাগছে—দেশে ফিরে কি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?

তবে একই সঙ্গে বাবা-মায়ের কথা ভেবেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে তাঁদের দায়ী করতেও চান না তিনি। তাঁর বক্তব্য, বাবা-মা তাঁকে কাছে চেয়েছিলেন, তাঁদের উদ্বেগও স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু বাস্তব জীবনে ফিরে আসার পর মানসিক ভাবে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি তাঁর ধারণার তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়েছে।

‘6 মাসেই সিদ্ধান্ত নয়’
ওই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর রেডিটে শুরু হয় আলোচনা। অনেকেই তাঁকে আরও সময় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বহু বছর বিদেশে থাকার পর মাত্র 6 মাসের মধ্যে নতুন করে সামাজিক জীবন তৈরি করা সহজ নয়। কেউ তাঁকে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কারও মতে, পুরনো সম্পর্ককে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা না করে নতুন বন্ধু, নতুন অভ্যাস এবং নতুন সামাজিক পরিমণ্ডল তৈরি করাই বেশি কার্যকর হতে পারে। আবার কেউ বলেছেন, ভারতের অন্য শহর বা অন্য পরিবেশে গিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার কথাও ভাবা যায়।

‘রিভার্স কালচার শক’ কি?
রেডিটের এক ব্যবহারকারী তাঁর অভিজ্ঞতাকে ‘reverse culture shock’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ, দীর্ঘ সময় অন্য দেশের পরিবেশে থাকার পর নিজের দেশেই ফিরে এসে পরিচিত জায়গাকে নতুন বা অচেনা মনে হওয়া। বিদেশে থাকার সময়ে মানুষের জীবনধারা, কাজের পরিবেশ, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং সামাজিক অভ্যাস বদলে যেতে পারে। সেই পরিবর্তন নিয়ে আবার আগের পরিবেশে ফিরে গেলে মানিয়ে নিতে সময় লাগতে পারে। ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও সেই অভিজ্ঞতাই ঘটছে বলে কয়েক জন মন্তব্য করেছেন।

দেশ বদলায়, মানুষও বদলায়
এই ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সম্ভবত এখানেই। বিদেশে চলে যাওয়ার পর শুধু যিনি বাইরে যান, তাঁর জীবনই বদলায় না। দেশে থেকে যাওয়া পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং পরিচিত মানুষগুলির জীবনও নিজের গতিতে এগিয়ে যায়। কেউ চাকরি বদলান, কেউ বিয়ে করেন, কেউ অন্য শহরে চলে যান, কেউ আবার নতুন দায়িত্বে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে বহু বছর পর ফিরে এসে পুরনো জায়গা, পুরনো মানুষ এবং পুরনো সম্পর্ককে হুবহু আগের অবস্থায় পাওয়া সব সময় সম্ভব হয় না। ওই প্রবাসীর অভিজ্ঞতায় সেই বাস্তবতাই নতুন করে সামনে এসেছে।

‘ফিরে আসা’ মানেই সব আগের মতো নয়
প্রবাসজীবন ছেড়ে দেশে ফিরে আসাকে অনেকেই পরিবারের কাছে ফেরা বা নিজের শিকড়ে ফিরে আসা হিসেবে দেখেন। কিন্তু এই ঘটনা দেখাল, শিকড়ের জায়গাটিও সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে। তাই বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত শুধু চাকরি, অর্থনীতি বা পরিবারের বিষয় নয়—সামাজিক সম্পর্ক এবং মানসিক মানিয়ে নেওয়ার প্রশ্নটিও তার সঙ্গে জড়িত।

ওই প্রবাসীর পোস্টের শেষ কথা তাই কোনও সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি প্রশ্ন—যে দেশে জন্ম, বহু বছর পর ফিরে এসে সেই দেশকেই যদি অচেনা মনে হয়, তবে নিজের ‘ঘর’ বলতে ঠিক কোন জায়গাটাকে বোঝাবে মানুষ? এক জনের অভিজ্ঞতা দিয়ে সমস্ত প্রবাসী বা দেশে ফেরা মানুষের পরিস্থিতি বিচার করা যায় না। কিন্তু তাঁর 6 মাসের অভিজ্ঞতা অন্তত একটি বিষয় সামনে এনেছে দেশে ফেরার বিমানযাত্রা কয়েক ঘণ্টার, কিন্তু পুরনো জীবনে ফিরে যাওয়ার পথটি অনেক দীর্ঘ।

24 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

প্রাণী-পরীক্ষা ছেড়ে মানবদেহনির্ভর গবেষণায় ঝুঁকছে বিশ্ব, উল্টো পথে ভারত!
দেশ

প্রাণী-পরীক্ষা ছেড়ে মানবদেহনির্ভর গবেষণায় ঝুঁকছে বিশ্ব, উল্টো পথে ভারত!

বিশ্বজুড়ে প্রাণী-নির্ভর গবেষণার বিকল্প হিসেবে মানবকোষ, অর্গান-অন-চিপ ও কম্পিউটার মডেলিংয়ের ব্যবহার বাড়ছে। সেই সময়েই ভারতের প্রস্তাবিত ২০২৬ সালের নতুন বিধি ঘিরে উঠেছে বিতর্ক। গবেষণার অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাবের আড়ালে প্রাণী-পরীক্ষার উপর নজরদারি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পশু অধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের একাংশ। প্রশ্ন উঠছে, আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারত কি বিকল্প গবেষণায় জোর দেবে?

০৬ নভে ২০২৬, ০৬:২১ পিএম · 5 মিনিট
Ayodhya Deepotsav 2026 : ৩৩ লক্ষ প্রদীপে সেজে উঠবে অযোধ্যা,আকাশে রামায়ণের ছবি!
দেশ

Ayodhya Deepotsav 2026 : ৩৩ লক্ষ প্রদীপে সেজে উঠবে অযোধ্যা,আকাশে রামায়ণের ছবি!

উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় ২০২৬ সালের দশম দীপোৎসব উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে একাধিক বড়সড় উদ্যোগ। সরযূ নদীর তীর এবং রাম কি পইডিতে প্রায় ৩৩ লক্ষ মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে নতুন করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ার লক্ষ্য নিয়েছে প্রশাসন। ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই উৎসবকে স্মরণীয় করে তুলতে সাজানো হয়েছে বিস্তৃত পরিকল্পনা।

০৬ নভে ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম · 2 মিনিট
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জ্বলল কর্মভূমি এক্সপ্রেসের ৪ কামরা! ট্রেনে তখন ঠাসা যাত্রী, কীভাবে রক্ষা পেলেন সকলে?
দেশ

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জ্বলল কর্মভূমি এক্সপ্রেসের ৪ কামরা! ট্রেনে তখন ঠাসা যাত্রী, কীভা...

  রাজপুরা: উৎসবের মরশুমে ফের রেলযাত্রায় আতঙ্ক! চলন্ত ট্রেনে হঠাৎ আগুন। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেল চারপাশ। আগুনের গ্রাসে চলে গেল কর্মভূমি এক্সপ্রেসের চারটি কামরা। শুক্রবার দুপুরে পঞ্জাবের রাজপুরায় এই ঘ...

০৬ নভে ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম · 2 মিনিট
ক্ষমা চেয়েও শেষরক্ষা হল না! কৃষ্ণকে নিয়ে মন্তব্যে এবার আদালতের কাঠগড়ায় বাগেশ্বর বাবা
দেশ

ক্ষমা চেয়েও শেষরক্ষা হল না! কৃষ্ণকে নিয়ে মন্তব্যে এবার আদালতের কাঠগড়ায় বাগেশ্বর ব...

নিউজ ডেস্ক: ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন ধর্মীয় বক্তা ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। তাঁর বিরুদ্ধে আগ্রার একটি আদালতে দায়ের হয়েছে ফৌজদারি মানহানির অভিযোগ। মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার কারেরা এল...

০৬ নভে ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম · 2 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.