নয়াদিল্লি: CJP-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সরব হলেন CPI সাংসদ পি. সন্তোষ কুমার। তাঁর অভিযোগ, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন এবং যাতায়াতের উপর বিধিনিষেধের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘ভোট চুরি’ সংক্রান্ত অভিযোগ এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করলেন INDIA জোটের সাংসদরা।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে পি. সন্তোষ কুমার জানান, INDIA জোটের নেতারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ‘ভোট চুরি’ সংক্রান্ত বিষয়গুলি রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, নেতাদের বক্তব্য ধৈর্য সহকারে শুনেছেন রাষ্ট্রপতি। বৈঠকের পর বিরোধী নেতারা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে বেরিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সাংসদের বক্তব্য, এই বিষয়গুলি নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন এখানেই থামছে না। পরশু দিনও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
অন্যদিকে, CJP-র প্রস্তাবিত প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন CPI সাংসদ। তাঁর কথায়, গোটা দিল্লিকে যেন সামরিক ঘাঁটির মতো দেখাচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
পি. সন্তোষ কুমারের দাবি, প্রতিবাদ জানানোর এবং শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত হওয়ার অধিকার সাধারণ মানুষের রয়েছে। সেই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এত কঠোর বিধিনিষেধ কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, জন্তর মন্তর এলাকা সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এর পাশাপাশি, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং সংবাদমাধ্যমের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতির কারণে দিল্লির স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সরকারের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে CPI সাংসদ বলেন, বিরোধী মতামতকে ভয় না পেয়ে সরকারের উচিত মানুষের প্রতিবাদের মুখোমুখি হওয়া। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদকারীরা সন্ত্রাসবাদী নন; তাঁরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে চান।
সব মিলিয়ে, একদিকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে ‘ভোট চুরি’ সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে ধরেছে INDIA জোট, অন্যদিকে CJP-র প্রতিবাদ ঘিরে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগের পাশাপাশি, প্রশাসনের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক এখন রাজধানীর রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়।
