নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা। ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলার জেরে চরম নিরাপত্তা সংকটের মুখে সৌদি আরব। আর এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে আলোচনায় পাকিস্তান। কিন্তু রিয়াধকে সাহায্য করতে গিয়ে পাকিস্তান নিজেই কি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফাঁদে জড়িয়ে পড়বে? এই প্রশ্নই এখন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-র ১২ অক্টোবরের একটি প্রতিবেদনে পাকিস্তানের সম্ভাব্য ইয়েমেন অভিযানকে ছয় দশক আগের মিশরের বিপর্যয়কর সামরিক হস্তক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
কেন ইয়েমেন নিয়ে উদ্বেগে পাকিস্তান?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল সরবরাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিশেষ করে বাব এল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগকারী এই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে তার প্রভাব শুধু সৌদি আরব বা ইয়েমেনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বিশ্ববাজারেও পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সৌদি আরবকে কী ধরনের সহায়তা দেবে, আদৌ সেনা মোতায়েন করবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে পাকিস্তানের সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
কেন মিশরের সঙ্গে তুলনা?
১৯৬০-এর দশকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেছিল মিশর। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসেরের সরকার প্রজাতন্ত্রী বাহিনীর সমর্থনে সেনা পাঠিয়েছিল। অন্যদিকে, সৌদি আরব সমর্থন করেছিল রাজতন্ত্রপন্থী শক্তিকে।
প্রথমে সীমিত সামরিক অভিযান হিসেবে শুরু হলেও সংঘাত ক্রমশ দীর্ঘায়িত হয়। মিশরকে বিপুল সেনা, সামরিক সরঞ্জাম এবং অর্থ ব্যয় করতে হয়। ইয়েমেনের দুর্গম ভূখণ্ড, স্থানীয় প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলির হস্তক্ষেপ মিশরীয় বাহিনীর জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তোলে।
এই কারণেই ইয়েমেনকে মিশরের জন্য এক ধরনের ‘ভিয়েতনাম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, এমন একটি সংঘাত যেখানে সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও দ্রুত জয় পাওয়া কঠিন এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রবল।
আসিম মুনিরের সামনে কী চ্যালেঞ্জ?
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সামনে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ একাধিক। সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইয়েমেনে সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়লে পাকিস্তানকে অতিরিক্ত ব্যয়, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।
পাকিস্তানের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ফলে অন্য একটি দেশের সংঘাতে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত ইসলামাবাদের জন্য সহজ হবে না।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সৌদি আরবকে সাহায্য করতে গিয়ে পাকিস্তান কি এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন? আপাতত সেটি আশঙ্কা ও বিশ্লেষণের বিষয় নিশ্চিত পরিণতি নয়।
সারকথা: ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি আরবের নিরাপত্তার পাশাপাশি পাকিস্তানের কৌশলগত সিদ্ধান্তেরও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। তবে পাকিস্তানের সম্ভাব্য সামরিক ভূমিকা এবং হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লিখিত দাবিগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।
