যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ ও জঙ্গি কার্যকলাপে পাকিস্তানের ভাঁড়ার প্রায় শূন্য। এই দৈন্যদশায় এবার আমেরিকার দরজায় দাঁড়িয়ে শেহবাজ শরীফের দেশ। রয়টার্স সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মধ্যস্থতা করার মূল্যস্বরূপ পাকিস্তান সরকার এবার আমেরিকার কাছে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা চেয়েছে। এই অর্থের মাধ্যমে দেশের সংকটাপন্ন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার শক্তিশালী করাই ইসলামাবাদের মূল লক্ষ্য।
সূত্রের দাবি, মার্কিন অর্থ সচিব স্কট বেসেন্টের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি দ্বিপাক্ষিক ‘মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীলকরণ সহায়তা ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার আবেদন জানিয়েছে। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর হতে পারে। কিন্তু কেন আচমকা আমেরিকার কাছে হাত পাততে হল ভারতের এই প্রতিবেশী দেশটিকে?
আসলে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে এক চরম আর্থিক সংকটের মুখে। আইএমএফ-এর ঋণের বোঝা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবর্ষে পাকিস্তানের মোট আয় প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধেই ব্যয় হয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৩৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শুধুমাত্র সরকারি ঋণ বাবদই খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ৯২ বিলিয়ন ডলার।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘাতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছিল পাকিস্তান। কূটনৈতিক আলোচনার জেরে ৮ এপ্রিল ২০২৬-এ দুই সপ্তাহের জন্য একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি।
তবে সেই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বর্তমানে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তার আবেদন করেছে ইসলামাবাদ। যদিও পাকিস্তানের এই প্রস্তাবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন এই আর্থিক সহায়তার আবেদন মঞ্জুর করে কি না, কিংবা কী ধরনের শর্ত আরোপ করে, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের।