সীমান্ত শহর বনগাঁয় ফের সন্দেহজনক পাক-যোগের অভিযোগ। জঙ্গি ও গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে রানা রাউত নামে এক পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তি ভারতীয় সেনা এবং রেলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা ISI-এর কাছে পৌঁছে দিতেন। বিষয়টি সামনে আসতেই উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সেনা ও রেলকে ঘিরেই নজরদারি?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের হাতে যে তথ্য এসেছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, রানা ভারতীয় সেনা এবং রেল পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তা পাকিস্তানে পাচার করতেন। ঠিক কী ধরনের তথ্য তিনি সংগ্রহ করেছিলেন, কোন কোন জায়গায় নজর রেখেছিলেন এবং সেই তথ্য কার কাছে পাঠানো হত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আগ্রহে এই তথ্য সংগ্রহের ঘটনা নয়; এর পিছনে কোনও সংগঠিত গুপ্তচর-চক্র রয়েছে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
বনগাঁয় কেন?
বনগাঁ এবং পেট্রাপোল দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। আন্তর্জাতিক সীমান্তের পাশাপাশি রেল যোগাযোগের দিক থেকেও এই অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কোনও বিদেশি নাগরিক সেখানে বসে দীর্ঘ সময় ধরে সন্দেহজনক গতিবিধি চালিয়ে থাকলে তা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে স্বাভাবিক ভাবেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রানা কী ভাবে ভারতে ঢুকেছিলেন, তাঁর কাছে বৈধ নথি ছিল কি না এবং বনগাঁয় কার কার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুধু এক জন, না কি পিছনে বড় নেটওয়ার্ক?
তদন্তকারীদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, রানা একাই কাজ করতেন কি না। তাঁর মোবাইল ফোন, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হতে পারে। কোনও নির্দিষ্ট নম্বর বা অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশেষত সেনা ও রেলের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রের তথ্য যদি নিয়মিত ভাবে বাইরে পাঠানো হয়ে থাকে, তা হলে তার পিছনে স্থানীয় কোনও সহযোগী ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া নথি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা অন্য কোনও সামগ্রীও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সীমান্তে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে সতর্কতা
বনগাঁয় এর আগেও সীমান্ত-যোগ এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ নিয়ে একাধিক বার তদন্ত হয়েছে। ফলে পাক নাগরিকের এই গ্রেফতারিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে দেখতে চাইছেন না নিরাপত্তা মহলের একাংশ। বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া এই এলাকায় কোনও বিদেশি নাগরিকের গতিবিধি এবং যোগাযোগের নেটওয়ার্ক নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই বাড়তি সতর্কতা রয়েছে।
তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। রানা রাউতের বিরুদ্ধে ওঠা গুপ্তচরবৃত্তি বা ISI-কে তথ্য দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এগোলে তাঁর আসল পরিচয়, ভারতে প্রবেশের পথ, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং তিনি আদৌ কোনও পাক গুপ্তচর সংস্থার নির্দেশে কাজ করছিলেন কি না—এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে। আপাতত বনগাঁয় পাক নাগরিকের গ্রেফতারিকে ঘিরে গোয়েন্দা মহলে তৈরি হয়েছে যথেষ্ট চাঞ্চল্য।