একের পর এক তৃণমূল নেতাদের গ্ৰেপ্তারির খবরে সরগমর রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি জেলা পুরুলিয়াতেও এর রেশ পড়েছে। তাবড় তাবড় তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হচ্ছে। এবার পুলিশের জালে আড়রা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান। বুধবারই তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে ঘিরে একেবারে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়ে ছিল রঘুনাথপুর ব্লকের আড়রা গ্রাম। কোনক্রমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
রঘুনাথপুর এক নম্বর ব্লকের আড়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান তথা রঘুনাথপুরের তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি তুফান রায়। সরকার পরিবর্তনের পর বিরত বেশ কিছু দিন গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন পর বুধবার তিনি পঞ্চায়েত কার্যালয়ে যান। আর সেখানে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েন। গণধোলাইয়ের শিকার হতে হয় তুফান রায়কে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আদ্রা থানার পুলিশ। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে সেখানে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ কৌশলে তুফান রায়কে উদ্ধার করে আদ্রা থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই। বুধবার সন্ধ্যায় তুফান রায়ের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও প্রাণনাশের অভিযোগ জমা পড়ে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতেই তুফান কুমার রায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এলাকার এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই গ্রেপ্তার বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার তুফান রায়কে রঘুনাথপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। নিজেদেরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এই ঘটনাকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে জোড় চর্চা শুরু হয়েছে। ইতিপূর্বেও জেলার একাধিক দাপুটে নেতা ও গ্রেপ্তার হয়েছে। এবার সেই তালিকাতেই নাম জড়ালো রঘুনাথপুর এক নম্বর ব্লকের আড়রা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তুফান রায়ের। সরগরম জেলার রাজনৈতিক মহল।