কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের সামনে ভারতের দরজা আরও খুলে দেওয়ার বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে টোকিয়োয় একাধিক বৈঠকে ভারতের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, ব্যবসা করার সহজতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতির কথা তুলে ধরলেন তিনি। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকের পাশাপাশি লগ্নি সংস্থা নিউবার্গার বারম্যানের কর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন গয়াল। তাঁর কথায়, ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির সামনে একের পর এক নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
নিউবার্গার বারম্যানের পূর্ব এশিয়া বিভাগের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রিয়ো ওহিরা ও তাঁর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে ভারত-জাপান লগ্নি সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়। আর্থিক পরিষেবা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দু’দেশের অংশীদারিত্ব কী ভাবে আরও মজবুত করা যায়, তা নিয়েও কথা হয়েছে। গয়াল জানান, ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার ক্ষেত্রে ভারত ধারাবাহিক ভাবে কাজ করে চলেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করাই কেন্দ্রের লক্ষ্য বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
এর পাশাপাশি জাপানের সরকারি ও বাণিজ্যিক মহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নাগমা মালিকের সঙ্গে ‘ফ্রেন্ডস অব ইন্ডিয়া’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জাপানের উপমুখ্য মন্ত্রিসচিব মাসানাও ওজাকি, রাজ্য মন্ত্রী তোশিরো ইনো, জেবিআইসি চেয়ারম্যান তাদাশি মায়েদা এবং জেট্রোর চেয়ারম্যান নোরিহিকো ইশিগুরোর সঙ্গে আলোচনা করেন গয়াল। গত জুলাইয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক সম্মেলনে যে সমঝোতা হয়েছিল, তা এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ভারত-জাপান সম্পর্ককে ‘নেক্সট জেনারেশন’ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়।
‘নিক্কেই এশিয়া’-র সঙ্গে এক আলোচনাতেও ভারতের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরেন গয়াল। সেমিকন্ডাক্টর, পরিচ্ছন্ন শক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনাময় ভারতীয় বাজারকে কাজে লাগিয়ে জাপানের সংস্থাগুলি বৃহৎ পরিসরে ব্যবসা বাড়াতে পারে। দু’দেশের সম্পর্কের ভিত আস্থা, প্রযুক্তি এবং যৌথ সমৃদ্ধির উপর দাঁড়িয়ে বলেও মন্তব্য করেন গয়াল। তাঁর মতে, স্থিতিস্থাপক সরবরাহ-শৃঙ্খল এবং যৌথ উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হতে পারে।