মাদকমুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যে দেশজুড়ে শুরু হল নতুন জনআন্দোলন। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘নশা মুক্ত যুব ফর বিকশিত ভারত সংকল্প অভিযান’-এর সূচনা করেন। যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিকশিত ভারতের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে দেশের তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী এবং নেশামুক্ত থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের তরুণরাই আগামী ২০-২৫ বছরে দেশের উন্নয়নের নেতৃত্ব দেবেন। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে যুবসমাজের শক্তি, প্রতিভা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তরুণদের নেশামুক্ত থাকা শুধু ব্যক্তিগত জীবনের জন্য নয়, দেশের ভবিষ্যতের জন্যও জরুরি।
এই কর্মসূচিকে সাধারণ সচেতনতা অভিযান না করে দীর্ঘমেয়াদি জনআন্দোলনের রূপ দেওয়া হয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১০০ সপ্তাহ ধরে প্রতি রবিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নেশাবিরোধী সচেতনতা ও যুবকেন্দ্রিক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। খেলাধুলা, ওয়াকাথন, ধ্যান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ছবি আঁকা ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতা, পথনাটিকা এবং বিভিন্ন সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
অভিযানের সূচনাকে ঘিরে দেশের প্রায় ১০ হাজার জায়গায় একসঙ্গে ‘নশা মুক্তি শপথ’ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এক কোটিরও বেশি যুবকের এই শপথে অংশ নেওয়ার কথা জানানো হয়। MY Bharat স্বেচ্ছাসেবক, NSS কর্মী, যুব ক্লাব, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন।
মোদি একইসঙ্গে মাদকাসক্তির সমস্যাকে গোপন না করে পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্য, সামাজিক লজ্জা বা ভয় থেকে সমস্যাকে লুকিয়ে রাখলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। পরিবার, শিক্ষক, সমাজ এবং প্রশাসন—সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কেন্দ্রের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল তরুণদের মধ্যে নেশার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং তাঁদের ইতিবাচক সামাজিক কাজে যুক্ত করা। সরকারের বার্তা, দেশের যুবশক্তিকে সঠিক পথে কাজে লাগানো গেলে তা শুধু মাদকবিরোধী লড়াইকেই শক্তিশালী করবে না, বরং ২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার পথও আরও মজবুত করবে।