JAZZBAAT 24 BANGLA
১৪ অক্টো ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
Breaking
Bigg Boss: বিগ বসের ঘরে চরম উত্তেজনা! গুল্লুর সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষের জল্পনা, শো থেকে বিদায়... ভারতের এই রেলস্টেশন ঘিরে রয়েছে অদ্ভুত ভৌগোলিক কাহিনি Aneet Padda: ২৪তম জন্মদিনে তারকাদের ভিড় অনীত পাড্ডার পার্টিতে, আলিয়া ভাটের উপস্থিতিতে বাড... CJP: “বিজেপির পাকিস্তানোচিত ভারতে স্বাগত!” অভিষেককে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজ... Arya Babbar: হঠাৎ ‘আদিপুরুষ’-এর প্রশংসা আর যশের লুক-এর সমালোচনা কেন?* ১৩০ বছর আগে খাদ্যে ভেজাল শনাক্তকরণে পথ দেখিয়েছিলেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় Dhurandhar: বলিউডের গণ্ডি পেরিয়ে এবার বিশ্বমঞ্চে ‘ধুরন্ধর’, ছবিকে ঘিরে বাড়ছে দর্শকদের প্... Fitness Tips: জিমে ঘাম ঝরান, দৌড়েও পটু, তবু শরীরচর্চা অসম্পূর্ণ? Bigg Boss: বিগ বসের ঘরে চরম উত্তেজনা! গুল্লুর সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষের জল্পনা, শো থেকে বিদায়... ভারতের এই রেলস্টেশন ঘিরে রয়েছে অদ্ভুত ভৌগোলিক কাহিনি Aneet Padda: ২৪তম জন্মদিনে তারকাদের ভিড় অনীত পাড্ডার পার্টিতে, আলিয়া ভাটের উপস্থিতিতে বাড... CJP: “বিজেপির পাকিস্তানোচিত ভারতে স্বাগত!” অভিষেককে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজ... Arya Babbar: হঠাৎ ‘আদিপুরুষ’-এর প্রশংসা আর যশের লুক-এর সমালোচনা কেন?* ১৩০ বছর আগে খাদ্যে ভেজাল শনাক্তকরণে পথ দেখিয়েছিলেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় Dhurandhar: বলিউডের গণ্ডি পেরিয়ে এবার বিশ্বমঞ্চে ‘ধুরন্ধর’, ছবিকে ঘিরে বাড়ছে দর্শকদের প্... Fitness Tips: জিমে ঘাম ঝরান, দৌড়েও পটু, তবু শরীরচর্চা অসম্পূর্ণ?

১৩০ বছর আগে খাদ্যে ভেজাল শনাক্তকরণে পথ দেখিয়েছিলেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়

১৩০ বছর আগে খাদ্যে ভেজাল শনাক্তকরণে পথ দেখিয়েছিলেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়
ছবি: গ্রাফিক্স ও এআই দ্বারা নির্মিত

নিউজ ডেস্ক: বর্তমান সময়ে খাদ্যদ্রব্যের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য রয়েছে আধুনিক পরীক্ষাগার, বিশেষ রাসায়নিক বিশ্লেষণ এবং নির্দিষ্ট পরীক্ষাপদ্ধতি। অথচ উনিশ শতকের শেষ দিকে ভারতে খাদ্যপণ্যের গুণগত মান পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত সীমিত। সেই সময় ভারতীয় খাদ্যপণ্যের রাসায়নিক গঠন পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়। গবেষণার বিষয় হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছিলেন এমন কিছু সাধারণ খাদ্যবস্তু, যেগুলি মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরনের তেল ও চর্বিজাতীয় উপাদান, যার সঙ্গে ঘি ও সর্ষের তেলের বিশুদ্ধতার প্রশ্নও জড়িয়ে ছিল।

ভারতীয় খাদ্যবস্তুকে তিনি শুধু প্রচলিত ধারণা বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে নয়, রাসায়নিক পরীক্ষার সাহায্যে বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের গবেষণাপত্র On the Chemical Examination of Certain Indian Food Stuffs. Part I, Fats and Oils ১৮৯৪ সালে Journal of the Asiatic Society of Bengal পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। গবেষণাপত্রটি পত্রিকাটির ৬৩তম খণ্ডের প্রথম সংখ্যায়, ৫৮ থেকে ৭৯ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছিল।

ঔপনিবেশিক বাংলায় ঘি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্যবস্তু। রান্নার পাশাপাশি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেও এর ব্যবহার ছিল। ফলে ঘির বিশুদ্ধতা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ শুধু খাদ্যের গুণমানের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ ছিল না; এর সঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাসও জড়িয়ে ছিল। ঘিতে অন্য চর্বি বা সস্তা উপাদান মেশানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। একইভাবে সর্ষের তেল ছিল বাংলার রান্নাঘরের অপরিহার্য উপাদান। তেলের বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ত।

এই প্রাথমিক গবেষণার ঐতিহাসিক গুরুত্ব এখানেই। প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন রসায়নবিদ, শিক্ষক এবং ভারতে আধুনিক রাসায়নিক শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ। ১৮৯২ সালে তিনি বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর কাছে রসায়নচর্চার গুরুত্ব শুধু গবেষণাগারে নতুন জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশীয় শিল্পের বিকাশ, সাধারণ মানুষের প্রয়োজন এবং দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার সমাধানেও বিজ্ঞানের ব্যবহারকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করতেন। খাদ্যপণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষা ছিল তাঁর এই বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই পরিস্থিতিতে রাসায়নিক বিশ্লেষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পথ খুলে দেয়। কোনও খাদ্যবস্তু দেখতে স্বাভাবিক হলেই যে তার গঠনও বিশুদ্ধ হবে, এমন নয়। আবার রং, গন্ধ বা ঘনত্বের সামান্য পার্থক্য দেখেই কোনও নমুনাকে ভেজাল বলা যায় না। রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে বিভিন্ন পদার্থের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা সম্ভব। প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের গবেষণাকে এই বৈজ্ঞানিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়। তবে তাঁর ১৮৯৪ সালের গবেষণাপত্রে ব্যবহৃত প্রতিটি পরীক্ষাপদ্ধতি এবং কোন ভেজাল শনাক্ত করতে তিনি ঠিক কী ফল পেয়েছিলেন, তা মূল লেখাটি বিশদে যাচাই না করে নির্দিষ্টভাবে বলা উচিত নয়।

কলকাতা পৌর প্রশাসনের ১৯১৮–১৯১৯ সালের প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য এই সমস্যার একটি ধারণা দেয়। ওই সময় পরীক্ষিত ১,৪০১টি ঘির নমুনার মধ্যে ১২৯টি এবং ৪৫৪টি সর্ষের তেলের নমুনার মধ্যে ১০৬টি ভেজাল বলে শনাক্ত হয়েছিল। এই পরিসংখ্যান প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের গবেষণার ফল নয়; এটি তাঁর গবেষণার পরবর্তী সময়ের খাদ্য পরীক্ষার সরকারি হিসাব। তবু সংখ্যাগুলি বুঝিয়ে দেয়, খাদ্যপণ্যের বিশুদ্ধতা যাচাই কেন ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

এখানে দেশীয় অর্থনীতির প্রশ্নটিও উপেক্ষা করা যায় না। প্রফুল্লচন্দ্র রায় দেশীয় শিল্পের বিকাশে গভীরভাবে আগ্রহী ছিলেন। তাঁর কাছে বিজ্ঞান ছিল আত্মনির্ভরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তবে ঘি বা সর্ষের তেলের বিশুদ্ধতা নিয়ে তাঁর রাসায়নিক গবেষণা এবং দেশীয় ব্যবসার পক্ষে তাঁর অবস্থানকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। এই দুটি বিষয়ের মধ্যে ঐতিহাসিক যোগসূত্র থাকলেও প্রত্যেকটির প্রমাণ আলাদাভাবে বিচার করা প্রয়োজন।

খাদ্যে ভেজাল নিয়ে সেই সময়ের উদ্বেগ পরবর্তী দশকগুলিতেও অব্যাহত ছিল। ইতিহাসবিদ উৎসা রায় তাঁর Culinary Culture in Colonial India গ্রন্থে ঔপনিবেশিক বাংলার খাদ্যসংস্কৃতি, খাদ্যের বিশুদ্ধতা এবং খাদ্যবাজার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁর আলোচনায় উঠে এসেছে, খাদ্যের গুণমান পরীক্ষা এবং ভেজাল নিয়ন্ত্রণ ক্রমে জনস্বাস্থ্য ও পৌর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছিল।

প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ১৩০ বছর আগের এই গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিজ্ঞান শুধু মহাকাশ, পরমাণু বা জটিল রাসায়নিক বিক্রিয়ার বিষয় নয়। রান্নাঘরের তেল, ঘি কিংবা প্রতিদিনের খাবারও বিজ্ঞানচর্চার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে। খাদ্যের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা, পরীক্ষার মাধ্যমে তার উত্তর খোঁজা এবং সেই জ্ঞানকে জনস্বাস্থ্যের কাজে লাগানো আধুনিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিরই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

বিজ্ঞাপনAdi Mohini Mohan Kanjilal
46 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

ভারতের এই রেলস্টেশন ঘিরে রয়েছে অদ্ভুত ভৌগোলিক কাহিনি
জানা-অজানা

ভারতের এই রেলস্টেশন ঘিরে রয়েছে অদ্ভুত ভৌগোলিক কাহিনি

বিশেষ প্রতিবেদন: ভারতে এমন অনেক রেলস্টেশন রয়েছে, যেগুলি শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের জন্যও বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। কোথাও একটি স্টেশন দুই রাজ্যের সীমান্তের কাছে, আবার কোথাও একই রেলপথ পেরিয়ে কয়েক মিন...

১৪ অক্টো ২০২৬, ০২:৩০ পিএম · 2 মিনিট
Thorium Nuclear Clock: থোরিয়ামে তৈরি হচ্ছে নতুন পারমাণবিক ঘড়ি
জানা-অজানা

Thorium Nuclear Clock: থোরিয়ামে তৈরি হচ্ছে নতুন পারমাণবিক ঘড়ি

নিউজ ডেস্ক: সময় মাপার নির্ভুলতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন একটি পারমাণবিক ঘড়ি তৈরি করেছেন অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। এই গবেষণার গুরুত্ব হল, ভবিষ্যতে আরও নির্ভুলভাবে সময় পরিমাপের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এ...

১৩ অক্টো ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম · 3 মিনিট
Neanderthal: ৬০ হাজার বছর আগেই দাঁতের অস্ত্রোপচার! নিয়ান্ডারথালদের চিকিৎসার প্রমাণ মিলল গবেষণায়
জানা-অজানা

Neanderthal: ৬০ হাজার বছর আগেই দাঁতের অস্ত্রোপচার! নিয়ান্ডারথালদের চিকিৎসার প্রমা...

নিউজ ডেস্ক: মানবসভ্যতার ইতিহাসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সূচনা ঠিক কবে, তা এখনও অজানা। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার থেকে জানা গিয়েছে, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার বহু হাজার বছর আগ...

১৩ অক্টো ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম · 2 মিনিট
নিয়ান্ডারথালরা প্রযুক্তিগতভাবে কতটা উন্নত ছিল? কাঠের কাজের দক্ষতা নিয়ে উঠে এলো নতুন তথ্য
জানা-অজানা

নিয়ান্ডারথালরা প্রযুক্তিগতভাবে কতটা উন্নত ছিল? কাঠের কাজের দক্ষতা নিয়ে উঠে এলো ন...

জার্মানির শোনিনগেন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান থেকে পাওয়া একটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হল প্রায় ৩ লক্ষ বছর পুরনো কাঠের তৈরি শিকারের বর্শা। যদিও এই অস্ত্রগুলি যে নিশ্চিতভাবে নিয়ান্ডারথালদের তৈরি, তার অকাট্য প্রমাণ নেই, তবুও ইউরোপে আধুনিক মানুষের ব্যাপক বিস্তারের বহু আগেই প্রাচীন মানুষেরা কাঠের কাজে যথেষ্ট উন্নত দক্ষতা অর্জন করেছিল।

১১ অক্টো ২০২৬, ০৭:২২ পিএম · 2 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.