প্রথমবার নির্বাচনী ময়দানে নেমেই বড় চমক দিলেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। বিহারের হাই-প্রোফাইল বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে গণনার সপ্তম দফা শেষে বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রশান্ত কিশোর পেয়েছেন ১৩,৫০০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমার সিনহা পেয়েছেন ৯,৬৮৯ ভোট। অর্থাৎ দু’জনের মধ্যে ব্যবধান ৩,৮১১ ভোট।
অন্যদিকে, আরজেডি প্রার্থী রেখা গুপ্তা এখনও পর্যন্ত পেয়েছেন ২,৫৯৯ ভোট। ফলে বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী, বাঁকিপুরে প্রশান্ত কিশোরের জয় এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাঁকিপুর আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। সেই কারণেই এই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। গত ৩০ জুলাই বাঁকিপুরে ভোটগ্রহণ হয়েছিল।
উপনির্বাচনের আগে বিজেপির প্রার্থী নিয়েও যথেষ্ট চর্চা হয়েছিল। মনোনয়ন জমা দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিষেক বান্টিকে সরিয়ে নীরজ কুমার সিনহাকে প্রার্থী করে বিজেপি। তবে প্রার্থী বদলের পরও দলের পক্ষে ফল এখনও পর্যন্ত আশানুরূপ হয়নি।
বাঁকিপুরের রাজনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট। আগে এই কেন্দ্রটি পাটনা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র নামে পরিচিত ছিল। নীতীন নবীনের বাবা কিশোর প্রসাদ সিনহা দীর্ঘদিন এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। ২০০৬ সালে তাঁর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে জয়ী হন নীতীন নবীন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বাঁকিপুর কার্যত বিজেপির দখলেই ছিল।
এই পরিস্থিতিতে প্রথম নির্বাচনে লড়াই করে প্রশান্ত কিশোরের এই সাফল্য রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জন সুরাজ পার্টিকে সামনে রেখে বিহারের রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছেন প্রশান্ত। তাঁর প্রথম নির্বাচনী লড়াইতেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে এগিয়ে থাকা সেই প্রচেষ্টাকে নতুন মাত্রা দিল।
তবে এখনও গণনা সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পরই নিশ্চিত হবে বাঁকিপুরে শেষ হাসি কে হাসলেন। আপাতত ভোটের ব্যবধান এবং গণনার ট্রেন্ড প্রশান্ত কিশোরের পক্ষেই রয়েছে।