চণ্ডীগড়: রাত তখন প্রায় দুটো। চারপাশ নিস্তব্ধ। আচমকাই বিকট শব্দে কেঁপে উঠল পঞ্জাবের ফাজিলকা জেলার জলালাবাদ থানা। থানার মূল ফটকের কাছেই ঘটে গেল বিস্ফোরণ। অভিঘাতে পুলিশের হেফাজতে থাকা দু’টি পুরনো গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তবে বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত কোনও পুলিশকর্মী বা সাধারণ মানুষের হতাহতের খবর নেই।
রবিবার গভীর রাতে প্রায় ২টো নাগাদ বিস্ফোরণের শব্দ পান থানায় থাকা পুলিশকর্মীরা। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের উৎস কোথায় এবং কী ধরনের বস্তু থেকে তা ঘটেছে, তা নিয়ে শুরু হয় তদন্ত। ঘটনার পরেই থানার আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, থানার মূল গেটের কাছাকাছি জায়গাতেই বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের অভিঘাত খুব বড় না হলেও থানার চত্বরে থাকা দু’টি গাড়ির উইন্ডশিল্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। কোনও বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা ফরেন্সিক পরীক্ষার পরেই স্পষ্ট হবে।
ফাজিলকার পুলিশ সুপার সতিন্দর কুমার জানিয়েছেন, রাতের ওই ঘটনায় দু’টি পুরনো গাড়ির কাচ ভেঙেছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিস্ফোরণের প্রকৃতি এবং উৎস জানতে তদন্ত চলছে। জেলার সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক গগন অজিত সিংহ-সহ শীর্ষ কর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
এখন পুলিশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—থানার মতো সুরক্ষিত এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটল কী ভাবে? বিস্ফোরণের আগে কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এসেছিল কি না, থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁক ছিল কি না, সেই সব দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। থানায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এখনও পর্যন্ত বিস্ফোরণকে কোনও নির্দিষ্ট জঙ্গি হামলা বা গ্রেনেড হামলা বলে দাবি করেনি পুলিশ। ফলে বিস্ফোরণের সঙ্গে কোনও নাশকতার যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছেন না তদন্তকারীরা।
ঘটনার পর অবশ্য পঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শিরোমণি অকালি দলের প্রধান সুখবীর সিংহ বাদল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, থানার মতো জায়গাতেও যদি বিস্ফোরণ ঘটে, তা হলে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। দলের নেতা বিক্রম সিংহ মাজিঠিয়াও একই প্রশ্ন তুলেছেন—পুলিশের থানা যদি নিরাপদ না থাকে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?
যদিও রাজনৈতিক অভিযোগের বাইরে তদন্তকারীদের নজর এখন বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণের দিকে। ঘটনাস্থল থেকে কী কী নমুনা পাওয়া গিয়েছে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত কোনও বস্তু ছিল কি না এবং সেটি কী ভাবে থানার চত্বরে এল—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ফরেন্সিক রিপোর্ট হাতে এলেই তদন্তে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।
থানার ভিতরে বিস্ফোরণ, দু’টি গাড়ির কাচ চূর্ণ—ক্ষয়ক্ষতি সীমিত হলেও ঘটনার গুরুত্ব নিয়ে কোনও সংশয় নেই। কারণ, নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলির একটিতেই রাতের অন্ধকারে বিস্ফোরণ ঘটেছে। সেই বিস্ফোরণের উৎস এবং নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটন করাই এখন পঞ্জাব পুলিশের কাছে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।