গোলাঘাট: মাঠে ফুটবল পড়ে রয়েছে। আচমকাই সেখানে হাজির বিশাল এক হাতি। তারপর যা করল, তা দেখে চোখ কপালে স্থানীয়দের! মানুষের মতোই শুঁড় বা দাঁত দিয়ে নয়—সরাসরি পা দিয়ে ফুটবল ঠেলে, বল নিয়ে মাঠ জুড়ে ঘুরে বেড়াল সে। অসমের গোলাঘাট জেলার নুমালিগড়ের বোগিধলা এলাকায় এমনই বিরল দৃশ্য ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। সেই ভিডিয়োই এখন ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে।
সবুজ ঘাসে ঢাকা মাঠ। সেখানে একটি ফুটবল পড়ে থাকতে দেখা যায়। বুনো হাতিটির নজর পড়তেই শুরু হয় তার ‘খেলা’। কখনও বলটিকে পা দিয়ে ঠেলে দিচ্ছে, কখনও তার পিছনে পিছনে হাঁটছে। আবার কখনও বলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। কয়েক মুহূর্তের জন্য যেন বনের বিশাল প্রাণীটি হয়ে উঠেছিল মাঠের একেবারে অন্য রকম ‘খেলোয়াড়’।
সূত্র: https://x.com/nextminutenews7/status/2099031996983087541?s=20
ঘটনাটি নুমালিগড়ের বোগিধলা এলাকায়। জায়গাটি অসমের গোলাঘাট জেলার অন্তর্গত। হাতিটির এই অপ্রত্যাশিত কাণ্ড দেখে উপস্থিত মানুষজনের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়। মোবাইল ক্যামেরায় সেই দৃশ্য বন্দি করেন কেউ কেউ। পরে ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে শুরু হয় বিস্তর আলোচনা।
ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, ঘাসের জমিতে বেশ স্বচ্ছন্দেই ঘুরে বেড়াচ্ছে হাতিটি। সামনে থাকা ফুটবলটিকে পা দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে। বলটি কিছুটা দূরে গড়িয়ে গেলে ফের তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে প্রাণীটি। তার চলাফেরায় কোনও তাড়াহুড়ো নেই, বরং গোটা ঘটনাটিকে বেশ খেলাচ্ছলেই নিতে দেখা যায় তাকে। হাতিটির পায়ের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ এবং বলের সঙ্গে তার এমন অপ্রত্যাশিত মিথস্ক্রিয়াই ভিডিয়োটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ মজা করে হাতিটিকে ‘ফুটবলার’ বলেছেন, কেউ আবার তার ‘ড্রিবলিং’-এর প্রশংসা করেছেন। তবে মজার এই দৃশ্যের পিছনে রয়েছে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক কৌতূহলও। মানুষের ব্যবহৃত কোনও বস্তু তাদের সামনে পড়লে অনেক সময় তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেখা যায় বন্যপ্রাণীদের।
অসমে হাতি এবং মানুষের সংঘাত অবশ্য নতুন নয়। গোলাঘাট-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় হাতির চলাচল নিয়ে প্রায়ই স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হয়। মাত্র কয়েক দিন আগেই গোলাঘাটের নুমালিগড়ের কাছাকাছি এলাকায় একটি বুনো হাতির গলায় ট্র্যাক্টরের টায়ার আটকে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। পরে বনকর্মীরা সেটিকে উদ্ধার করেন।
সেই প্রেক্ষাপটে নুমালিগড়ের এই ফুটবল-দৃশ্য নিঃসন্দেহে অন্য রকম। এক দিকে মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাতের কঠিন বাস্তবতা, অন্য দিকে সেই একই এলাকার বুনো হাতির এমন খেলাচ্ছলে আচরণ—দুই ছবিই যেন পাশাপাশি উঠে এল এই কয়েক সেকেন্ডের ভিডিয়োয়।
তবে এমন দৃশ্য যতই আকর্ষণীয় হোক, বুনো হাতির কাছাকাছি গিয়ে ছবি বা ভিডিয়ো করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্ক থাকা জরুরি। শান্ত দেখালেও হাতি বুনো প্রাণী; আচমকা তার আচরণ বদলে যেতে পারে। ফলে দূরত্ব বজায় রেখেই এমন দৃশ্য উপভোগ করাই নিরাপদ।
নুমালিগড়ের মাঠে কয়েক মুহূর্তের সেই ‘ফুটবল ম্যাচ’-এর কোনও দর্শকাসন ছিল না, ছিল না রেফারি, ছিল না প্রতিপক্ষও। ছিল শুধু একটি বল আর জঙ্গলের এক অঘোষিত খেলোয়াড়। আর সেই খেলাই এখন মোবাইলের পর্দা পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছে হাজার হাজার মানুষের কাছে।