সরকারি যোজনার নথি বিকৃতির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য পুরুলিয়ায়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে সর্বত্র। অভিযুক্তদের রবিবার পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হয়।
বিজেপির অভিযোগ, গত ৭-ই জুলাই গভীর রাতে পুঞ্চা ব্লক অফিসে অনধিকার প্রবেশ করে ল্যাপটপে সরকারি নথি পরিবর্তনের কাজ চলছিল। সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তার ভাইপো তথা পুঞ্চা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি কৃপাসিন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কর্মাধ্যক্ষ চরণপাহাড়ি দাস ব্লক অফিসে ঢুকে এই কাজ করছিলেন। খবর পেয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ব্লক অফিসে পৌঁছে তাদের হাতেনাতে ধরে বিক্ষোভ দেখায়।
এ বিষয়ে পুঞ্চা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় বিজেপির পক্ষ থেকে। পরের দিন পুলিশ কৃপাসিন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়, চরণপাহাড়ি দাস-সহ ব্লক অফিসের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করে। পরে তারা আদালত থেকে জামিন পান। এরপর বিজেপির দায়ের করা আরো একটি অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার রাতে লাখরা গ্রাম থেকে সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও কৃপাসিন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবং পাড়ুই গ্রাম থেকে চরণপাহাড়ি দাসকে গ্ৰেপ্তার করা হয়।
বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি জনপ্রিয় ঘোষ বলেন, রাতের অন্ধকারে ব্লক অফিসে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহজনক কার্যকলাপ চলছিল। অন্নপূর্ণা যোজনার যোগ্য উপভোক্তাদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই কাজ চলছিল। তাই তারা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার বিশেষ কিছু জানা নেই তিনি খোঁজ নিয়ে দেখছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে জেলা জুড়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত তিন জনকে রবিবার আদালতে তোলা হবে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।




