সিজেপির পার্টির সাপোর্টার শেখ আবদুল হাফিজ। তিনি বাঁকুড়ার ইন্দাসের বাসিন্দা। সম্প্রতি দিল্লির আন্দোলন থেকে গ্রামে ফিরে নিজের এলাকার মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি। এলাকার স্কুলের ও রাস্তার বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে সরব হয়েছিলেন। আর এই প্রতিবাদের মাসুল দিতে হলো বাবার জীবন দিয়ে। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
জানা গিয়েছে, গত ১৯ জুলাই দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন করিশুন্ডার যুবক শেখ আবদুল হাফিজ। পরদিন রাজীব চকে তাঁকে আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশের লাঠিচার্জ এবং টিয়ার গ্যাসের মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে। এরপর তিনি গ্রামে ফিরে আসেন। গ্রামে ফিরে আসার পর বিজেপির পরবর্তী আন্দোলনের পাশে থাকেন। গ্রামের করিশুন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেহাল রাস্তার বিরুদ্ধে ভিডিও করা শুরু করেন তিনি। আর সেটাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায়। বিজেপি পক্ষ থেকে ক্রমাগত হুমকির অভিযোগ করেছেন তিনি।
হঠাৎ করেই হাফিজের বাড়িতে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন বাবা শেখ মহম্মদ মাফিক। ১৪-ই আগস্ট রাতভর তার বাড়ি ঘিরে রাখা হয়। এরপর মাফিক শেখের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বাঁকুড়ার ইন্দাস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাকে স্থানান্তরিত করা হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজে। সেখানেই মৃত্যু হয় তার। এই ঘটনা কি ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা ইন্দাস জুড়ে।
এ বিষয়ে আবদুল হাফিজের অভিযোগ, 'সিজেপি করার কারণে ক্রমাগত বিজেপির হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছিল তাকে। তাতে কাজ না হওয়াতে বিজেপি কর্মীরা তার বাড়িতে চরম হয়ে তার বাবাকে মারধর করে। আর তাতেই এই পরিণতি।'
সিজেপির তরফে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায়। আবদুল হাফিজের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে দেখাও করেছেন। আগামীদিনেও তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে এমনই বার্তা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি আরো বলেছেন ‘এই ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের রাতের ঘুম উড়িয়ে দেবেন।’
রবিবার এ বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টবার্তা, “ এই ঘটনার বিষয়ে তিনি সবকিছু জানেন। অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। তিনজন গ্রেফতার হয়েছে। তারা কেউ বিজেপি কর্মী নয়। সবাই দুষ্কৃতি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে দেখছে। রাজ্যে আইনের শাসন চলছে।”
অন্যদিকে, বিজেপির অবিভক্ত বাঁকুড়ার প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক জীবন চক্রবর্তীও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ‘এই ঘটনায় বিজেপির কোনও যোগ নেই এবং তৃণমূল রাজনৈতিকভাবে বিজেপিকে দায়ী করার চেষ্টা করছে। পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য সামনে আনবে বলেও দাবি তাঁর।’ ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা বাঁকুড়া। আগামীদিনে এই তদন্তের মোড় কোন দিকে যায় সেটাই এখন দেখার।