দেখে মনে হবে খুব সাধারণ দেখতে চারটি থার্মোকলের বাক্স। কিন্তু তার ভেতরেই ছিল মহা মূল্যবান সামগ্রী। বাক্সগুলি খোলার পরেই হইচই পড়ে যায় দমদম এয়ারপোর্ট চত্ত্বরে। প্যাকেটের পর প্যাকেট খুলতেই বেরিয়ে এল সারি, সারি দুর্লভ মাছ। যেগুলির এক একটির বাজার মূল্য কয়েক হাজার টাকা। আর এতেই বানচাল হয়ে গেল কোটি টাকার দুর্লভ মাছ পাচারের অভিযান।
কলকাতার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক কার্গো বিভাগের মাধ্যমে চারটি থার্মোকলের বাক্স মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোর আধিকারিকদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। শুরু হয় বিমান বন্দরে তদন্ত। আর এই তদন্তেই সামনে আছে অবাক করা দৃশ্য। প্যাকেটর ভিতরে সাজানো রয়েছে সাপের মাথা। রীতিমতো হতবাক হয়ে যান তদন্তকারীরা। এগুলি কোনো সাপের মাথা নয়। এগুলি দুর্লভ প্রজাতির মাছ চান্না বার্কা যা স্নেকহেড ফিশ নামেও পরিচিত। মোট ৫৫০টি দুর্লভ মাছ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই বিপুল পরিমাণ দুর্লভ মাছ মালয়েশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছিল। দেশ-বিদেশের বিলাসবহুল অ্যাকোয়ারিয়ামে সাজানোর জন্য এই মাছ ব্যবহার হয়ে থাকে। সেই কারণেই এর বিরাট চাহিদা। একটু বড় আকারের এই মাছ গুলির এক একটির দাম ২৫ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত যায় বলে জানা গেছে। অ্যাকোয়া এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর হিন্দোল হালদারের নাম উঠে এসেছে এই ঘটনায়। তার নামেই বুকিং করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। বিপুল পরিমাণে এই মাছ ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
কোথা থেকে এই মাছগুলি আনা হয়েছিল? কি উদ্দেশ্যেই বিদেশে যাচ্ছিল? তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। সকলের চোখে ধুলো দিয়ে বিদেশে পাচার হচ্ছিল দুর্লভ মাছ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই পাচার অভিযান সফল হলো না। এই পাচার চক্রের সঙ্গে আরো কারা কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে।