স্পোর্টস ডেস্ক: ইউরোপীয় ফুটবলের মঞ্চে 'কামব্যাক' আর রিয়াল মাদ্রিদ যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আরও একবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। গ্রিসের অলউইন অ্যারেনায় স্বাগতিক এইকে এথেন্সের বিরুদ্ধে দুই দুই বার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে জোসে মরিনহোর শিষ্যরা। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে অর্থাৎ ৯২ মিনিটে অধিনায়ক ফেদেরিকো ভালভার্দের এক দুর্দান্ত ব্যাঙ্গার শটে জয় নিশ্চিত হয় লস ব্লাঙ্কোসদের। এই জয়ের ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি মৌসুমের লিগ পর্বে ৪ ম্যাচের সবকটিতেই জিতে ১২ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের নিখুঁত রেকর্ড ধরে রাখল রিয়াল মাদ্রিদ।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই এথেন্সের চমক ও বেলিংহ্যামের রেকর্ড
নিজেদের ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে গ্রিক চ্যাম্পিয়ন এইকে এথেন্স। ম্যাচের মাত্র ১২ মিনিটেই তারা স্তব্ধ করে দেয় রিয়াল শিবিরকে। রিয়াল মাদ্রিদেরই প্রাক্তন স্ট্রাইকার লুকা জোভিকের বাড়ানো পাস থেকে চমৎকার বাঁ-পায়ের শটে গোল করে এথেন্সকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন উইঙ্গার আবুবাকারি কোইতা। গোল হজমের পর রিয়াল সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ২৮ মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম একটি গোল করলেও তা ভিএআর (VAR) চেকের পর অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে এর মাত্র ৪ মিনিট পর, ম্যাচের ৩২ মিনিটে নিজের জাদুকরী রূপ দেখান বেলিংহ্যাম। মার্ক কুকুরেয়ার নিখুঁত ক্রস থেকে ১২ গজ দূর থেকে এক অনবদ্য 'ব্যাকহিল ফ্লিক'-এ বল জালে জড়িয়ে রিয়ালকে ১-১ সমতায় ফেরান এই ইংলিশ তারকা। এই গোলের পাশাপাশি ইতিহাস গড়েন বেলিংহ্যাম। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় যিনি ২৩ বছর ১২৮ দিন বয়েসে ৬০টি ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করলেন। যা আগে ইকার ক্যাসিয়াসের দখলে ছিল। একই সাথে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে টানা সাতটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মৌসুমে গোল করার রেকর্ডও গড়েন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে নাটকীয়তা পৌঁছায় চরম সীমায়। এই হাফে রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল পাচ্ছিল না। কিলিয়ান এমবাপে একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করেন, যার একটি এথেন্সের গোলরক্ষক আলবার্তো ব্রিগনোলি দারুণভাবে প্রতিহত করেন। কুকুরেয়ার একটি শট দারুণ ভাবে সেভ করে ম্যাচের সমতা বজায় রাখেন এথেন্সের গোলরক্ষক। হঠাৎই উল্টো ম্যাচের ধারার বিপরীতে ৭৫ মিনিটে স্টেডিয়াম কাঁপিয়ে আবারও এগিয়ে যায় এথেন্স। কোইতার পাস থেকে ডিফেন্ডার স্টাভ্রোস পিলিওস গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচ ২-১ করেন।
লস ব্লাঙ্কোসদের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কামব্যাক কিং বলার কারণ প্রমাণিত হলো আরও একবার।
পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি ইউরোপের রাজারা। রিয়ালের জবাব আসতে সময় লেগেছে মাত্র তিন মিনিট। ৭৮ মিনিটে ডেনজেল ডামফ্রিজের চমৎকার ক্রস থেকে গোল লাইনের খুব কাছ থেকে ট্যাপ-ইন করে রিয়ালকে ২-২ ব্যবধানে সমতায় ফেরান ফরাসি ফরোয়ার্ড কাইলিয়ান এমবাপে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি এমবাপের টানা চতুর্থ গোল। ৮৬ মিনিটে এমবাপের আরেকটি জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে জয়সূচক গোলের অপেক্ষা বাড়ে। অবশেষে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে অর্থাৎ ৯০+২ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে ব্রাহিম দিয়াজকে পাস দেন এবং দিয়াজের অ্যাসিস্ট থেকে ২৫ গজ দূর থেকে বক্সের কোনা দিয়ে এক বুলেট গতির কোণাকুণি শটে গোল করেন বদলি হিসেবে নামা রিয়াল অধিনায়ক ফেদেরিকো ভালভার্দে। বল সরাসরি জড়িয়ে যায় পোস্টের টপ কর্নারে। এই গোলের সাথে সাথেই বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে রিয়াল মাদ্রিদ শিবির।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর রেফারির সাথে তর্কে জড়িয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন এথেন্সের প্রথম গোলের নায়ক আবুবাকারি কোইতা। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানের নাটকীয় ও ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কামব্যাক কিং রিয়াল মাদ্রিদ।




