নিউজ ডেস্ক: রাতের অন্ধকারে রাস্তার ধারে দুজনের গতিবিধি নিয়ে তৈরি হয়েছিল সন্দেহ। পুলিশের নজর এড়াতে পারলেও শেষ রক্ষা হল না। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এলাকায় শুরু হল তল্লাশি। এরপরই সামনে আসে এমন কিছু যা দেখে কার্যত চমকে ওঠেন তদন্তকারীরাও। এরপর আটক করা হয় দুই যুবককে।
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থানা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মানসাতলা থেকে গোচারণ-ধোসা রোড সংলগ্ন এলাকার দুই ব্যক্তির সন্দেহজনক গতিবিধির খবর আসে পুলিশের কাছে। সেই খবরের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালায় জয়নগর থানার পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, আটক করার পর তাঁদের কাছ থেকে বেশকিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। তল্লাশিতে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং তাজা কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি ৭ মিমি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র বলে জানা গিয়েছে। সঙ্গে ছিল মোট ৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ।
ধৃতদের পরিচয়ও প্রকাশ করেছে পুলিশ। তাঁদের নাম আমির সোয়েল শেখ এবং সাহিদ আনোয়ার মন্ডল। আমিরের বয়স ২৫ বছর এবং সাহিদের বয়স ২৬ বছর। তবে, শুধু অস্ত্র উদ্ধার করে তদন্ত শেষ করতে চাইছে না পুলিশ। কি উদ্দেশ্যে তাঁদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক নজর এখন অস্ত্রের উৎসের দিকে। কোথা থেকে ওই আগুনেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ তাঁদের হাতে এল, কারও কাছ থেকে তাঁরা তা সংগ্রহ করেছিলেন কি না এবং এর পিছনে আরও কোনও ব্যাক্তি বা চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অতীতে কোনও অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তকারীদের আওতায় রয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র কোনও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারে পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অন্যতম বিষয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা।
ইতিমধ্যেই ধৃত আমির সোয়েল শেখ এবং সাহিদ আনোয়ার মণ্ডলকে বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে। তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশের পর পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তবে, এই অস্ত্র উদ্ধারের নেপথ্যে ঠিক কি উদ্দেশ্য ছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। পুলিশ সেই উত্তরই খুঁজছে।
