রিষড়া, স্নিগ্ধা চৌধুরী: স্ত্রীকে শেষবার ফোন করে সন্তানদের দেখাশোনার কথা বলেছিলেন। ফোন রাখার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বেঙ্গল STF-এর হাতে গ্রেফতার হলেন জাফর শামস ওরফে সানি। হুগলির রিষড়ার সন্ধ্যা বাজার এলাকা থেকে তাঁকে জঙ্গি যোগের সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর সঙ্গে যোগ থাকা এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সাহায্য করেছিলেন সানি।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রিষড়ার সন্ধ্যা বাজারে পুরনো বন্ধু শেখ সোহরাব ভিকির দোকানে যান সানি। নিজের মোবাইলে চার্জ না থাকায় বন্ধুর ফোন থেকে স্ত্রীকে ফোন করেন তিনি। স্ত্রীকে মেয়েকে ভালো করে রাখার পাশাপাশি নিজের খেয়াল রাখতেও বলেন। এরপর ফোনটি বন্ধুর হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যায় STF-এর আধিকারিকরা। সানিকে আটক করে নিয়ে যায় তারা।
STF সূত্রে অভিযোগ, ISI এজেন্ট হিসেবে সন্দেহভাজন রানা রউফকে নিজের বন্ধু পরিচয় দিয়ে সালকিয়ার একটি কারখানায় কাজ পাইয়ে দিতে সাহায্য করেছিলেন সানি। শুধু তাই নয়, রানা রউফের ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতেও তিনি সাহায্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। রানা রউফ গ্রেফতার হওয়ার পর তপসিয়া এলাকা থেকে আরও দু’জনকে STF গ্রেফতার করে। এরপরই পরিস্থিতি বুঝে সানি পুরনো পরিচিত এলাকা রিষড়ায় এসে গা ঢাকা দিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
সানির পরিবারের সঙ্গে রিষড়ার পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। একসময় গান্ধী সড়কের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকত তাঁদের পরিবার। প্রায় সাত বছর আগে তাঁরা কলকাতার তপসিয়ায় চলে যান। সানির বাবা একসময় রিষড়ার একটি জুটমিলে কাজ করতেন।
সানির গ্রেফতারের ঘটনায় তাঁর পুরনো প্রতিবেশীরাও বিস্মিত। স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াসি আহমেদ জানান, যে বাড়িতে সানির পরিবার থাকত, সেটি এখন আর নেই; সেখানে তৈরি হয়েছে নতুন আবাসন।
অন্যদিকে, সানির পুরনো বন্ধু ভিকির কথায়, বহু বছর পর বন্ধুকে দোকানে দেখে তিনি বিষয়টি নিয়ে কিছুই আঁচ করতে পারেননি। তাঁর মোবাইল থেকে স্ত্রীকে ফোন করার পরই যে STF এসে সানিকে গ্রেফতার করবে, তা ভাবতে পারেননি তিনি।
ঘটনার পর সানির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে বেঙ্গল STF। তাঁর সঙ্গে কোনও জঙ্গি নেটওয়ার্কের সরাসরি যোগাযোগ ছিল কি না, অন্য কেউ এই ঘটনায় যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।