কলকাতা: পায়ে ফ্র্যাকচার, তীব্র যন্ত্রণা তবুও থেমে থাকেননি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং নির্বাচন কমিশনের তলব, দুইয়ের চাপ সামলাতে আহত অবস্থাতেই দিল্লি পাড়ি দিলেন তিনি। একদিকে পায়ের চোট নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে তৃণমূলের প্রতীক সংক্রান্ত বিতর্কে হলফনামা জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁর।
জানা গিয়েছে, দিন চারেক আগে কলকাতায় নিজের অফিসে কাজ করার সময় তাড়াহুড়োয় সোফায় বাঁ পায়ে আঘাত পান ঋতব্রত। প্রথমে চোটটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেননি তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা বাড়তে থাকে। পরে জানা যায়, তাঁর পায়ে ফ্র্যাকচার হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে আপাতত পায়ের পরিচর্যা করছেন তিনি।
এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের তরফে তৃণমূলের প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে ফের নথি চাওয়া হয়। সেই পরিস্থিতিতে রবিবার রাতে আহত অবস্থাতেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন ঋতব্রত। সোমবার দিনভর প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সারেন তিনি।
কেন এত তাড়াহুড়ো করে দিল্লি যাত্রা?
এই যাত্রার নেপথ্যে রয়েছে হলফনামা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে বিতর্ক। সোমবার ভোরে নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে ঋতব্রত অভিযোগ করেন, ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় চার্টার্ড বিমানে কালীঘাটের হলফনামাগুলি দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ তাঁদের হলফনামা সড়কপথে পাঠানো হচ্ছে।
তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য তাঁদের কর্মীরা ২৪ অক্টোবর সকালেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পরে অভিযোগ ওঠে, দিল্লির পথে একটি ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ঋতব্রতর দাবি, দলের কর্মীরা সাহসিকতার সঙ্গে সেই চেষ্টা প্রতিহত করেছেন।
এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য সামনে আসেনি।
মঙ্গলবার কলকাতায় ফিরেই চিকিৎসকের কাছে
নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ঋতব্রত জানিয়েছেন, পায়ে যথেষ্ট ব্যথা রয়েছে এবং ফ্র্যাকচারের কারণেই এই যন্ত্রণা হচ্ছে। কলকাতায় ফিরে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন তিনি। প্রয়োজন হলে পায়ে প্লাস্টার করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তও চিকিৎসকদের মতামত অনুযায়ী নেওয়া হবে।
আহত অবস্থাতেও দলের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে ঋতব্রত বলেন, চোট লাগলেও দলের কাজ তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই তাঁকে দিল্লি আসতে হয়েছে।
এখন একদিকে তাঁর চিকিৎসা, অন্যদিকে হলফনামা সংক্রান্ত বিতর্কের পরবর্তী পদক্ষেপ দুই বিষয়েই নজর রাজনৈতিক মহলের। নির্বাচন কমিশনের কাছে নথি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, সেটাই এখন দেখার।




