স্পোর্টস ডেস্ক: আচমকাই অশান্তির ছায়া পর্তুগাল শিবিরে। কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে জাতীয় দলের শিবির ছাড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েঞ্চার সঙ্গে আলোচনার পরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সমাজ মাধ্যমে নিজেই শিবির ছাড়ার কথা জানিয়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক। শুধু তাই নয়, ঠিক কী কারণে এই সিদ্ধান্ত, তা উপযুক্ত সময়ে দেশের মানুষকে জানাবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ইউরোপের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, কোচের সঙ্গে রোনাল্ডোর সম্পর্কের অবনতিই এই ঘটনার নেপথ্যে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তাঁর অবসরের জল্পনাও শুরু হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত নরওয়ের বিরুদ্ধে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে। এর কয়েক দিন আগে ওয়েলসের বিরুদ্ধে খেললেও নরওয়ের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে জায়গা হয়নি রোনাল্ডোর। পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামার জন্য দ্বিতীয়ার্ধে ওয়ার্ম আপ করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে নামাননি জেসুস। বরং গঞ্জালো রামোসের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় পর্তুগাল। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর সতীর্থদের সঙ্গে সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে না গিয়ে সরাসরি সাজঘরে চলে যান সিআর সেভেন। তাঁর এই আচরণ ঘিরেই শুরু হয় জল্পনা। পরে জেসুস স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অতীতের পারফরম্যান্স নয়, বর্তমান ফর্মের ভিত্তিতেই দল নির্বাচন করা হবে। তাঁর কথায়, ভাল খেললে রোনাল্ডোও সুযোগ পাবেন, না হলে নয়।
এর পরেই বিতর্ক সামাল দিতে স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় পৌঁছন পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েঞ্চা। রোনাল্ডো ও কোচের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করেন তিনি। যদিও বৈঠকের পর জেসুস দাবি করেন, আদতে কোনও সমস্যা ছিল না। তাঁর বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমে অতিরিক্ত আলোচনা হওয়ায় সভাপতি বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দলের প্রথম একাদশ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও আপোষ করতে রাজি নন তিনি। এমনকি রোনাল্ডোকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, পরের দু’টি ম্যাচে তাঁকে প্রথম একাদশে রাখা হবে না। প্রয়োজন হলে পরিবর্ত হিসেবে নামানো হবে, না হলে পুরো ম্যাচই বেঞ্চে বসে থাকতে হবে।
কোচের এই অবস্থানই নতুন করে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে বলে খবর। জেসুসের সাফ কথা, কোনও ফুটবলার, এমনকি ফেডারেশন সভাপতিও দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত বদলাতে তাঁকে বাধ্য করতে পারবেন না। অন্য দিকে, শিবির ছাড়ার কথা জানিয়ে রোনাল্ডো সতীর্থদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে পর্তুগালের জার্সিতে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে এখনই বিদায় জানাবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। আপাতত বিতর্কের সমস্ত দিক নিয়ে মুখ খোলেননি তিনি। তবে উপযুক্ত সময়ে গোটা ঘটনার সত্য প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পর্তুগালের তারকা। ফলে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে ফুটবল দুনিয়া।
